বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে বাবার মৃত্যুসংবাদ শুনে শুক্রবার রাতেই ছুটে আসেন সদ্য বিবাহিত আইরিন খাতুন। আজ শনিবার সকালে লাশ দাফন করার জন্য যখন বাড়ি থেকে বের করা হয়, তখন আইরিন বাবার কফিনের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। এ সময় তিনি বিলাপ করে বলেন, ‘আমাকে বিদায় দিয়ে তুমি চিরতরে বিদায় নিলে, বাবা! আমার বিয়েতে এত আয়োজন করার কী দরকার ছিল? বিয়ের আয়োজনই তোমার কাল হলো। আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো, বাবা।’

এলাকাবাসী ও থানা–পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আতিয়ার রহমানের তিন মেয়ে। বড় মেয়ের বছর তিনেক আগে বিয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার দ্বিতীয় মেয়ে আইরিন খাতুনের বিয়ে দেন ধুমধাম করে। রাতে জামাতার হাতে মেয়েকে তুলে দিয়ে বিদায় জানানোর পর বিয়ের প্যান্ডেলের ভেতরের বৈদ্যুতিক ফ্যানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিয়েবাড়িতে নিয়ে আসা বৈদ্যুতিক স্ট্যান্ড ফ্যানটি সারা দিন চলেছে। কিন্তু রাতে ওই ফ্যানের মাথা হাত দিয়ে ঘোরাতে গিয়ে আতিয়ার বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান। পরে জানা যায়, ফ্যানটি বিদ্যুতায়িত ছিল।

কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক বলেন, ধুমধাম করে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে বিদায় জানানোর পর সেই বিয়ের প্যান্ডেলের ভেতরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবার মারা যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান আজ দুপুরে বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে আতিয়ারের লাশ রাতে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে বৈদ্যুতিক শকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয় এবং কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি) হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন