ওমর ফারুকের বাড়ি জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে চাটখিল উপজেলার রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে। গতকাল বুধবার সকালে চট্টগ্রামের বাসা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন ফারুক। সঙ্গে আসেন তাঁর স্কুল-কলেজ জীবনের আরও ছয় বন্ধু। এর মধ্যে তিন বন্ধুকে নিয়ে ফারুক বেলা সোয়া একটার দিকে সাঁতার কাটতে নামেন পাশের খিলপাড়ার মল্লিকা দিঘিতে। চার বন্ধু সাঁতরে দিঘির মাঝামাঝি পর্যন্ত যান। সেখান থেকে তিনজন ফিরে এলেও নিখোঁজ হন ফারুক। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা দিঘি থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফারুকেরা তিন ভাই ও তিন বোন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজ। তাঁর বাবা বজলুর রহমান চট্টগ্রামে টিঅ্যান্ডটিতে চাকরি করতেন। ফারুকদের ভাইবোনদের বেড়ে ওঠা সেখানেই। সে সুবাদে ফারুকের পরিবার চট্টগ্রামে থাকত। ফারুক ২০১২ সালে ৩১তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী কর কমিশনার হিসেবে চট্টগ্রামে যোগ দেন। প্রায় দেড় বছর আগে পদোন্নতি পেয়ে তিনি ঢাকায় বদলি হন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি ঢাকা-১৪ অঞ্চলের উপ কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ওমর ফারুকের লাশ দাফন করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের ভিড়। শোকাতুর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন স্বজনেরা। ফারুকের দুই সন্তান বাবাকে হারানোর বিষয়টি এখনো বুঝতে পারছে না।

ফারুকের শাশুড়ি রাশেদা আক্তার অনবরত কাঁদতে থাকা নাতি ওরহান ফারুককে (৫) কোলে নিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। পাশের চেয়ারে দেড় বছরের নাতনি সাময়রা ফারুকের মাথায়-মুখে হাত বুলিয়ে দিয়ে আদর করতে করতে বলছিলেন, ‘জানি না কী হবে এই অবুঝ দুই শিশুর!’

ওমর ফারুকের স্ত্রী ফারজানা বিনতে হাফিজ প্রথম আলোকে বলেন, বুধবার সকাল ৬টার দিকে তাঁর স্বামী তাঁকে দ্রুত তৈরি হতে বলেন। তিনি বাচ্চাদের নিয়ে তৈরি হন। তাদের চট্টগ্রামে তাঁর বাবার বাসায় নামিয়ে দিয়ে ছয় বন্ধুকে নিয়ে তাঁর স্বামী গ্রামের বাড়িতে যান। কথা ছিল, সন্ধ্যা নাগাদ তাঁর স্বামী চট্টগ্রামে ফিরে যাবেন। দুপুরে জানতে পারেন, তাঁর স্বামী পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়েছেন।

ফারুকের চাচাতো ভাই শাহদাত হোসেন বলেন, তাঁর চাচা মারা যান ২০১৮ সালে। তিনি পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম থাকতেন। চাচাতো ভাইবোনেরা তেমন বাড়িতে আসতেন না। বাড়িতে কোনো ঘর ছিল না। ছয় বছর আগে বাড়িতে একটি টিনশেড ঘর করা হয়। এরপর গত ছয় বছর প্রতি ঈদে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ঈদ করতেন। এবার ঈদের পরের দিন শুধু ওমর ফারুক এসেছেন। চাচিসহ অন্যরা ঈদ করেছেন চট্টগ্রামে। চাচাতো ভাইয়ের এমন মৃত্যু তাঁরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন