এক পা নেই বলে তিনি কী ফেলনা হয়ে গেছেন? এত কষ্টের মধ্যে লেখাপড়া করে তারও তো আত্মসম্মান হয়েছে। কিন্তু কেউ তা বোঝে না।
আরিফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, রাজশাহী

পা হারানোর পরে বাঁশের লাঠি বানিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে স্কুলে যাতায়াত শুরু করেন। প্রাথমিকে সব সময় প্রথম হতেন তিনি। তেপুকুরিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় ৩ দশমিক ১৯ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে জিপিএ-৪ দশমিক ৫২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। কলেজ ছিল বিএম ডিগ্রি কলেজ। পরে বাঘার শাহ দৌল্লা কলেজ থেকে তিন বছরের স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে রাজশাহী কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

৩০টির মতো সরকারি ও বেসরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়েছেন আরিফুল। কিন্তু চাকরি হয়নি। ঢাকায় গিয়ে অনেক কষ্টে পরীক্ষা দিয়েছেন। হতাশা নিয়ে আরিফুল বললেন, ‘মাঝেমধ্যে মনে হয়, লেখাপড়া না করে ছোটবেলা থেকে অন্য কিছু করলেই ভালো হতো। চেয়েছি লেখাপড়া শিখে নিজেই কিছু করতে। অন্যের বোঝা হতে চাই না। সবাই বলত, “লেখাপড়া শিখে কী হবে? চাকরি কে দেবে?” এখন মনে প্রশ্ন জাগে, তাদের কথাই কী ঠিক ছিল? কারণ, এত কষ্টে লেখাপড়া করে এখনো চাকরি পেলাম না। চাকরির বয়স তো শেষই।’

আরিফুল ২০০৫ সাল থেকে এলাকায় টিউশনি করে চলেন। প্রথমবার মাত্র ৫০ টাকায় টিউশনি শুরু করেন। এ টাকা দিয়ে লেখাপড়া শিখেছেন। তাঁর পরিবার থেকেও টাকা নিতে হতো। ভাইয়েরা এখন সংসার পেতেছেন। তাঁরা আলাদা থাকেন। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। বছরখানেক আগে বাবাও মারা গেছেন। মা সাহেরা বেগমেরও বয়স হয়ে গেছে। এখন লেখাপড়া শিখে একটি চাকরির খোঁজে আছেন তিনি।

রাজশাহী শহরে আসার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আরিফুল বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ‘অডিটর’ পদে তিনি গত ২০ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি উত্তীর্ণ হন। বুধবার এই পদে তাঁর মৌখিক পরীক্ষা ছিল। এ জন্য তিনি বোনের বাসায় উঠেছেন।

চোখের কোণে পানি নিয়ে আরিফুল বললেন, সবাই শুধু আশ্বাস দেন। কিন্তু চাকরি আর হয় না। এক পা নেই বলে তিনি কী ফেলনা হয়ে গেছেন? এত কষ্টের মধ্যে লেখাপড়া করে তারও তো আত্মসম্মান হয়েছে। কিন্তু কেউ তা বোঝে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন