ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় রিকশায় করে এই মাইকিং করেন মেড্ডা এলাকার আলী মিয়া। বিকেল চারটার দিকে হাসপাতাল রোড এলাকায় মাইকিংয়ের সময় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, সদর থানা–পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক এই মাইকিং করার জন্য তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাটে মাইকিং করেছেন।

মাইকিংয়ে জনসাধারণের উদ্দেশে আরও বলা হয়, ‘সবাইকে নিজ নিজ বাসায় বসে খেলা দেখতে অনুরোধ করা হলো। খেলা শেষে কোনো প্রকার আনন্দ মিছিল, পটকা-আতশবাজি ফোটানো সম্পূর্ণ নিষেধ। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আরও সচেতন হোন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। অতি জরুরি প্রয়োজনে মাস্ক ছাড়া বাসা থেকে কেউ বের হবেন না। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভাসহ জেলার নয়টি উপজেলার প্রতিটি থানা–পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ফুটবল খেলা নিয়ে বিশৃঙ্খলা এড়াতে মাইকিং করান। এ সময় পুলিশ সদস্যরা জিপ গাড়িতে এবং থানার পক্ষ থেকে রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে মাইকিং করানো হয়। শনিবার দিনভর জেলার ১১৬টি বিটে মাইকিং করানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় ১১ জুলাই ভোর ৬টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনাল খেলা ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে ১১৬টি বিট পুলিশের দল মোতায়েন করা হবে। প্রতিটি বিটে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও দুজন কনস্টেবল আছেন। এ ছাড়া শনিবার ভোররাতে পুলিশের আরও ৪০টি বিশেষ টহল দল মোতায়েন করা হবে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন প্রথম আলোকে খেলা ঘিরে মাইকিংয়ের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার দামচাইল বাজারে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ব্রাজিলের এক সমর্থকের চাচা নওয়াব মিয়া (৬০) আহত হন। এর জেরে ওই দিনই রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাল্টা হামলায় আর্জেন্টিনার তিন সমর্থক জাকির মিয়া (৩২), সেলিম মিয়া (৪৫) ও সৈয়দাবুর রহমান (৩৫) আহত হন।