default-image

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল বাশার চোকদারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবদুল মান্নান হাওলাদার। আওয়ামী লীগের তিনজন কর্মীকে মারধরের অভিযোগ এনে গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ভেদরগঞ্জ থানায় মামলাটি করা হয়।

মামলায় ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল জব্বার রাড়িকে প্রধান আসামি করে ৩৬ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পুলিশ কাঞ্চন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

আজ শনিবার সকাল থেকে এ পৌরসভায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর এর আগের রাতে মামলা দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে।

ভেদরগঞ্জ থানা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে আওয়ামী লীগের কর্মী মোহাম্মদ আলী, মানিক দেওয়ান ও সোহাগ দেওয়ানকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল মান্নান হাওলাদার ভেদরগঞ্জ থানায় ওই মামলা করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল জব্বার রাড়ি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন। এ কারণে তাঁকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আবদুল জব্বার রাড়ি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি। দল থেকে সঠিক মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, তাই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী একটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে, যাতে আমরা ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারি।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার চোকদার বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এর আগে আমাকেসহ আমার ৬৭ কর্মীকে আসামি করে মামলা দেওয়া হয়েছে। ভোটের আগের রাতে মামলা দিয়ে আমার এজেন্টদের আসামি করা হয়েছে।

ভোটকেন্দ্র দখল ও প্রভাব বিস্তার জন্য আগের রাতে মিথ্যা মামলাটি করা হয়েছে। আর আমাদের কর্মী–সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে, পুলিশ কিন্তু সেই মামলা নেয়নি।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল মান্নান হাওলাদার বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা ষড়যন্ত্র করে নৌকা প্রতীকের ক্ষতি করতে চাইছেন। তাঁরা আমার কর্মী-সমর্থকদের মারধর করছেন, তাই মামলা দেওয়া হয়েছে।’

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রশিদুল বারী প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগের তিনজন কর্মীকে মারধরের অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মামলা করেছেন। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ মামলার কারণে নির্বাচনী পরিবেশের কোনো প্রভাব পড়বে না।

প্রসঙ্গত, ভেদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মান্নান ব্যাপারীসহ সাত নেতা। কিন্তু মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান মেয়র ও উপজেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান হাওলাদার। এ কারণে বিদ্রোহ করে মনোনয়নপত্র জমা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবুল বাশার চোকদার, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক নেয়ামত সিকদার এবং উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মান্নান ব্যাপারীর স্ত্রী মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক চিনু বেগম।

চিনু বেগম ও নেয়ামত সিকদার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল বাশার চোকদারকে সমর্থন করেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন মান্নান ব্যাপারী। তাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী নানা ধরনের কার্যক্রম চালান।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন