বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রানীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বাঘবেড় ইউপির চেয়ারম্যান আবদুস সবুর নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। একই গ্রামের বাসিন্দা ও জেলা পরিষদের সদস্য হাফিজুর রহমান ওরফে খোকন (মোটরসাইকেল) বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। শনিবার বিকেলে হাফিজুরের সমর্থকেরা কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেল প্রতীকের পোস্টার সাঁটাতে যান। এ সময় কালিনগর গ্রামে নৌকার সমর্থকেরা তাঁদের বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

এর জেরে সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাফিজুরের ৩০-৩৫ জন কর্মী রানীগাঁওয়ে সবুরের বাড়ির উঠানে নৌকার প্রচারকেন্দ্রে হামলা চালান। সেখানে ১০-১২টি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।

হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা নৌকার সমর্থক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মোস্তাক আহমেদের ছেলে মাহমুদুল মোস্তাকের (১৬) পায়ে কোপ লাগে। এ ছাড়া সেখানে থাকা শহর ভানু (৫৫) নামের এক নারীর ডান হাত ভেঙে যায়। এক রিকশাচালকও আহত হন। আহত মাহমুদুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান।

এ বিষয়ে জানতে হাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে কল করা হয়। তবে তাঁর স্ত্রী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আশুরা বেগম ফোন ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিকেলে আমাদের দুই কর্মী কালিনগর কেন্দ্রে মোটরসাইকেলের পোস্টার লাগাতে গেলে নৌকার সমর্থকেরা বাধা দেন এবং মারপিট করেন। সন্ধ্যার আগে কর্মীদের বাড়িতে যেতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। তবে ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

আবদুস সবুর বলেন, ‘সবাই বাজারে থাকার সুযোগে হাফিজুরের ৩০-৪০ জন কর্মী-সমর্থক আমার গ্রামের বাড়িতে দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। রামদা দিয়ে আমার ভাতিজাকে পায়ে আঘাত করেন। এ সময় প্রচারকেন্দ্রে থাকা চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। হামলায় এক নারীর হাত ভেঙে যায় এবং একজন রিকশাচালক আহত হন। এই সন্ত্রাসী হামলার বিচার চাইতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।’

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বলেন, নৌকার প্রার্থী আবদুস সবুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন