বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে নৌকা প্রার্থীর পাঁচ কর্মী বিয়াস বাবুপাড়ার ভূপতি ঘোষের বাড়িতে যান। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের অনুপস্থিতিতে তাঁরা নারীদের কাছে অভিযোগ করেন, ভূপতি ঘোষের ছেলে প্রকৌশলী চন্দন ঘোষ নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কালামের ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। ২০ ডিসেম্বরের (সোমবার) মধ্যে তিনি যদি নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ভোট না চান, তাহলে পরিবারের সবার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে এবং দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে। সোমবারের পর তাঁরা আবার ওই বাড়িতে যাবেন বলেও হুঁশিয়ার করে দেন।

ভূপতি ঘোষ আজ দুপুরে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যুগ যুগ ধরে আওয়ামী লীগ করি। গত নির্বাচনে যখন আবুল কালাম নৌকা নিয়ে ভোট করেছেন, তখনো আমরা তাঁর পক্ষে কাজ করেছি। এবারও আমার ছেলে তাঁর পক্ষে কাজ করছেন। এটা তো অপরাধ হতে পারে না। যার জন্য বাড়ির মেয়েদের পর্যন্ত হাত-পা ভেঙে দেশত্যাগে বাধ্য করার হুমকি দিয়েছেন সাইফুল। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।’

অভিযুক্ত ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘শুক্রবার আমি ভূপতিদার বাড়িতে যাইনি। তবে ওই দিন এক নির্বাচনী সভায় আমি কয়েকটি সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যদের নৌকার পক্ষে ফিরে আসতে বলেছিলাম। তাঁদের মধ্যে ভূপতির নামও ছিল।’

নৌকার প্রার্থী মামুন সিরাজুল মজিদ বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় উন্মাদ হয়ে গেছেন। তাই তিনি ভূপতি ঘোষকে দিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন। অভিযোগ যদি সত্য হতো, তাহলে তাঁর সঙ্গে হিন্দু নেতারা কাজ করতেন না।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, অভিযোগটি পুলিশের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর-এ-আলম সিদ্দিকী জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে ডাহিয়া ইউপির নৌকার প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত শুরু হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন