বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চাষিরা জানান, এক বিঘা জমিতে আগাম আলু উৎপাদন করতে সাধারণত কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়। গড়ে এক বিঘা জমিতে ৭৫ মণ আলু উৎপাদন হয়। ওই হিসাবে প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ পড়ে ১০ টাকার কিছুটা বেশি।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পারিয়া গ্রামের আলুচাষি খসিয়র রহমান এবার চার বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেছিলেন। আলু আবাদে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, হালচাষ, মজুরি মিলিয়ে তাঁর খরচ হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। গতকাল তিনি খেত থেকে সেই আলু তুলেছেন।

খসিয়র রহমান বলেন, আগাম আলুতে যেখানে খরচের দুই থেকে তিন গুণ লাভ থাকার কথা, এবার সেখানে লোকসান দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে তিনি এবার ৩১২ মণ আলু পেয়েছেন। খেত থেকে ৮ টাকা দরে মোট ৯৯ হাজার ৮৪০ টাকার আলু বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

default-image

রানীশংকৈল উপজেলার ভবানন্দপুর গ্রামের কৃষক আকবর হোসেন বলেন, ‘আমি বরাবরই আগাম আলুর চাষ করে আসছি। আগাম আলু আবাদে খরচ বেশি হলেও বাজার দরে তা পুষিয়ে যায়। কিন্তু এবার লোকসান হয়ে গেল।’

সদর উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের চাষি শহিদুল হক বলেন, ‘আলু লাগাবার সময় বৃষ্টিত মোর জমির সব বীজ আলু পচে গেইছে। সেইলা উঠায়ে আবার লাগাবা নাগিছে। বিঘায় ৩৫ হাজার টাকার ওপরত খরচ হয়ে গেইছে। আর আলু বিক্রি করে পাছি ২৪–২৫ হাজার টাকা। লাভের আশাত আগাম আলু করে খালি লসে লস।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হিমাগারগুলোতে গত মৌসুমের আলুর মজুত শেষ হয়নি। তাই কৃষকেরা আগাম আলু বিক্রি করে নায্য মূল্য পাচ্ছেন না।

জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরে নতুন আলু এত কম দামে বিক্রি হয়নি। এর আগের বছরেও কৃষকেরা নতুন আলুতে ভালো দাম পেয়েছিলেন। বাজারে এখনো হিমাগারে রাখা গত মৌসুমের আলু বিক্রি হচ্ছে। তাই বাজারে নতুন আলুর চাহিদা কম।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন