বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বগুড়ার মোকামতলা আরঅ্যান্ডআর পটেটো কোল্ড স্টোরেজে গতকাল অ্যাসটরিক জাতের আলু প্রতি বস্তা (৬০ কেজি) ৬০০ টাকা, দেশি পাকরি ও ডায়মন্ড জাতের আলু ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অ্যাসটরিক জাতের আলু প্রতি বস্তায় খরচ ১ হাজার ১১০ টাকা। পাকরি ও ডায়মন্ড জাতের আলু প্রতি বস্তার উৎপাদন থেকে হিমাগারে সংরক্ষণ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

হিমাগারে দাম কম থাকলেও রাজধানীর নাখালপাড়ায় মুদিদোকানে গতকাল খুচরায় প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকায়। একই দিনে কারওয়ান বাজারে আলুর পাইকারি দর ছিল প্রতি কেজি ১৮ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারের হিসাবের ফারাক কমাতে পারলে ভোক্তা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। কিন্তু আলু নিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা যে সমস্যায় পড়েছেন, তার সুরাহার জন্য আরও বড় পদক্ষেপ দরকার।

আলুর দাম কমে যাওয়ায় কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে হিমাগার মালিক ও আলু রপ্তানিকারকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে আপাতত আলু রপ্তানির সম্ভাবনা নেই বলে জানা যায়। তাই দেশের ভেতরে সরকারি ত্রাণ কার্যক্রমে আলুর ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণ কার্যক্রমে আলু বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, এনজিও ব্যুরো এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়।

সারা দেশে ৪০৫টি হিমাগারে ৫০ লাখ মেট্রিক টন আলু আছে। এর মাত্র ১০ ভাগ বিক্রি হয়েছে। সরকারি ত্রাণে আলু যুক্ত করার পরামর্শ

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. দুলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এ মৌসুমে রেকর্ড আলু উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে এবার বন্যা হয়নি। সবজি রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। তাতে আলুর চাহিদা সামান্য কমেছে। আবার বগুড়া অঞ্চল থেকে অন্য জেলায়ও আলু খুব একটা যায়নি। সব মিলিয়ে আলুর বাজারমূল্য কমে গেছে।

বগুড়ার পুরোনো হিমাগার হিমাদ্রি কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড। এই হিমাগারসহ দুটি হিমাগারে ১১ হাজার বস্তা (এক বস্তায় ৬০ কেজি) আলু রেখেছিলেন জামালপুর সদরের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আলু বিক্রির জন্য কয়েক দিন ধরে হিমাগারে ঘুরছি। কিন্তু ক্রেতা নেই। গত এক সপ্তাহে এক বস্তা আলুও বিক্রি করতে পারিনি।’ বর্তমান বাজারদর অনুসারে তাঁর লোকসান হবে ৪৪ লাখ টাকা। দাম কমলে লোকসানের অঙ্ক প্রতিদিনই বাড়বে।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে এবার আলু উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশে ৪০৫টি হিমাগারে এবার ৫০ লাখ মেট্রিক টন আলু আছে। অন্যবার ২০ আগস্টের মধ্যে সাধারণত ৫০ ভাগ আলু হিমাগার থেকে বের হয়ে যায়। বাজারে চাহিদা না থাকায় এবার এখন পর্যন্ত ১০ ভাগ আলুও হিমাগার থেকে বের হয়নি। ২০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে মাত্র ১০ লাখ মেট্রিক টন আলু হিমাগার থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

মোজাম্মেল হক আরও বলেন, গত বছর হিমাগারে আলু সংরক্ষিত হয়েছিল ৪৭ লাখ মেট্রিক টন। আলুর চাহিদা ছিল বেশি। গতবার পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর বাজারমূল্য ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। দাম ভালো পাওয়ায় কৃষক-ব্যবসায়ীরা লাভ করেছেন ভালো। এবার আলু নিয়ে সংকট তীব্র হয়েছে।

হিমাদ্রি কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, আলুর বাজারমূল্যে এই বিপর্যয় ঠেকাতে প্রক্রিয়াজাত কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি ও রপ্তানির উদ্যোগ দরকার। চাষিদের লোকসান থেকে বাঁচাতে আলুর বহুমুখী ব্যবহারে সরকারকে সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন