বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরবিন্দ বিশ্বাস। এতে উপস্থিত ছিলেন আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবদুল মোহাম্মদ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রওনক জাহান প্রমুখ।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আশুগঞ্জে মতবিনিময় সভার আয়োজনের কয়েকটি কারণ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, আশুগঞ্জ সার কারখানা, আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ধোঁয়া নির্গত হওয়া, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গরম পানি মেঘনায় অপসারণসহ বেশ বিছু কারণে উপজেলায় দ্রুত জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে ঢাকা থেকে আশুগঞ্জ উপজেলার তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকে। এ জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) প্রণয়ন এবং অগ্রগতি মতবিনিময় সভা এ উপজেলায় আয়োজন করা হয়েছে।

সভায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ, এর প্রভাব, এলাকায় বিদ্যমান জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনের প্রকল্প প্রণয়নে বাধা ও সমস্যা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, ন্যাপ প্রকল্প প্রণয়নের জন্য প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন সুপারিশ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি নদীতে ফেলার পরিবেশগত কোনো অনুমোদন নেই। শিল্পনগরী হওয়ায় আশুগঞ্জ উপজেলায় মিল, কলকারখানার কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন বর্জ্যের কারণে মেঘনার পানি দূষিত হচ্ছে। তাই ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে এসব নিয়ে কাজ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এসব বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ তৈরি হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রওনক জাহান বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের উচ্চ তাপমাত্রার পানি মেঘনা নদীতে ফেলায় জলজ বাস্তুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কারণ, ছোট জীব বেশি তাপমাত্রায় বেঁচে থাকতে পারে না। এতে মাছের মজুত কমে যাচ্ছে।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। উন্নত দেশগুলোর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশকে সহায়তার দায়িত্ব নেওয়া উচিত। কিন্তু তাঁরা যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। অতএব আমাদেরই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলা করতে হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন