default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ-আখাউড়া প্রস্তাবিত চার লেন সড়কের আখাউড়া অংশের উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ তুলে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় লোকজন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আখাউড়া উপজেলার গাজীর বাজারে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আজ বেলা দুইটার দিকে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, আখাউড়া পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউছার ভূঁইয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ তানজিল শাহ, দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ ভূঁইয়া প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সরকারের উন্নয়নকাজকে বাধাগ্রস্ত করতে জামায়াত-বিএনপির লোকজন তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন সড়কের আখাউড়া-ধরখার অংশের নকশা পরিবর্তনের নামে আন্দোলন করে সরকারের উন্নয়নকাজে বাধা সৃষ্টি করছে।

চার লেন সড়কের আখাউড়া-ধরখার অংশের সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সংযুক্ত। এই সড়ক চার লেনে উন্নীত হলে এই এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা আরও মজবুত ও টেকসই হবে।
শরীফুল ইসলাম, মানববন্ধনের সমন্বয়কারী ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক
বিজ্ঞাপন

আন্দোলনের সমন্বয়কারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘চার লেন সড়কের আখাউড়া-ধরখার অংশের সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সংযুক্ত। এই সড়ক চার লেনে উন্নীত হলে এই এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা আরও মজবুত ও টেকসই হবে। কিন্তু জামায়াত-বিএনপি নেতাদের উসকানিতে কিছুসংখ্যক লোক সড়কের নকশা পরিবর্তনের নামে আন্দোলন ও সভা-সমাবেশ করছে, যা সরকার ও দেশের উন্নয়নবিরোধী। তাদের কর্মকাণ্ডে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা মনে করি।’

default-image

এর আগে গত বছর ১৪ ডিসেম্বর একই এলাকায় উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের সাতটি গ্রামের কয়েক শ মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে আশুগঞ্জ-আখাউড়া প্রস্তাবিত চার লেন সড়কের আখাউড়া অংশে নকশা পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন করেন। ওই দিন তাঁরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পেশ করেন। সে সময় এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রস্তাবিত সড়কটি মোগড়া ইউনিয়নের তুলাবাড়ী থেকে সোজা না নিয়ে এক দেড় কিলোমিটার বাঁক দিয়ে সাতটি গ্রামের ওপর দিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান নকশা অনুযায়ী সড়কটি বাস্তবায়ন করা হলে দক্ষিণ ইউনিয়নের তিনটি মসজিদ, তিনটি মার্কেট, সাতটি কবরস্থান, তিনটি ঈদগাহসহ বহু বাড়ি চার লেন সড়কে বিলীন হয়ে যাবে। এতে দক্ষিণ ইউনিয়নের বঙ্গের চর, সাতপাড়া, দ্বিজয়পুর, আনন্দপুর, রহিমপুর, বীরচন্দ্রপুর, সাহেবনগর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁরা দাবি করেন, নকশাটি সামান্য পরিবর্তন করে সড়কটি নির্মাণ করা হলে মার্কেট, মসজিদ, কবরস্থান, বাড়িঘরসহ স্থাপনা রক্ষা পাবে। এতে সড়কের দূরত্বও কমে যাবে ও সরকারের ১৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা মহাসড়কের ধরখার থেকে সড়কটি তোলাবাড়ি দিয়ে সোজাসুজি আখাউড়া স্থলবন্দরের রাস্তার সঙ্গে যুক্ত করে আগরতলা নেওয়া হোক। তাহলে জনবসতির কোনো ক্ষতি হবে না, সরকারের বহু অর্থ সাশ্রয় হবে।
এম আকছির চৌধুরী, নকশা পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনকারী

ওই আন্দোলনকারীদের একজন সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের ব্যক্তিগত সহকারী এম আকছির চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা মহাসড়কের ধরখার থেকে সড়কটি তোলাবাড়ি দিয়ে সোজাসুজি আখাউড়া স্থলবন্দরের রাস্তার সঙ্গে যুক্ত করে আগরতলা নেওয়া হোক। তাহলে জনবসতির কোনো ক্ষতি হবে না, সরকারের বহু অর্থ সাশ্রয় হবে। বর্তমানে সড়কটি এক–দেড় কিলোমিটার বাঁক দিয়ে সাতটি গ্রামের ওপর দিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যার যৌক্তিকতা আমরা বুঝতে পারছি না।’

আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন মহাসড়ক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৬৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ২০ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দেয়। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা ধরা হয়েছিল ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের নকশা ও আশুগঞ্জ নদীবন্দর টার্মিনালের নকশা চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। এখন পর্যন্ত ১০৭ দশমিক ৫০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন