ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, গ্যাসের নির্গত ধোঁয়ায় মুহূর্তে বোরো ধানখেত বিবর্ণ হতে থাকে। সেই সঙ্গে কিছু ধানখেত ঝলসে যায়। একই সঙ্গে সেখানে একটি আমবাগানেরও ক্ষতি হয়েছে। আমের মুকুল নষ্ট হয়েছে। বিষয়টি তাঁরা মৌখিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ইটভাটার ধোঁয়া ও গ্যাসে প্রায় ৫০ জন কৃষকের ৬০-৭০ বিঘা ধানখেত ঝলসে গেছে। এসব খেতে আর ধান পাওয়া যাবে না। এমন আকস্মিক ঘটনায় সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁরা ইটভাটার মালিকের কাছে দেনদরবার করলেও কোনো সাড়া পাননি।

সিরাজুল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। ভাটামালিকের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে। এখন টালবাহানা করছেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত আরেক কৃষক মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘আমার পাঁচ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়া গেল। এ আবাদের ধান দিয়া পরিবারের ভাত জোটে। এখন কী করমু সেই চিন্তায় বাঁচি না।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুজ্জামান বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও গ্যাসে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝলসে গেছে ধানখেত। সরেজমিন তদন্ত করে জানা যায়, প্রায় ৩৫-৪০ বিঘা জমির ধান পুরোটা নষ্ট হয়েছে। এতে ৩৬ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইটভাটার মালিকপক্ষের সঙ্গে কথাও হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

পীরগঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি এনামুল হক বলেন, এ ইটভাটার লাইসেন্স নেই। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ওই ইটভাটার মালিকপক্ষের কাছে তিনি দাবি জানিয়েছেন।

ইটভাটার মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, ধানখেত যে ইটভাটার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এর প্রমাণ কী? এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোদা রানী বলেন, তিনি বিষয়টি কৃষি বিভাগকে তদন্ত করার জন্য বলেছেন। এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, তিনি কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন