চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভার নির্বাচন ১৪ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন প্রভাবশালী প্রার্থীর একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র সবেদ আলী। প্রথম আলোকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নির্বাচন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন মোবাইল ফোন প্রতীকের এই প্রার্থী।
default-image

নির্বাচনী পরিবেশ কেমন মনে হচ্ছে?

সবেদ আলী: পরিবেশ ভালোই ছিল। মাঝে এক দিন (১ ফেব্রুয়ারি রাতে) হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা বাদ-প্রতিবাদ করেছি। প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির পর আমরা শান্ত আছি। বর্তমানে পরিবেশ ভালো।

ভোটারদের আগ্রহ কেমন দেখছেন?

সবেদ আলী: ভোটারদের আগ্রহ অত্যন্ত ভালো। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সবাই আমাকে ভোট দেবে এবং সেটাই স্বাভাবিক। তবে ইভিএমের ভোট নিয়ে মানুষের মনে ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ‘ভোট দেব এক জায়গায়, হয়ে যাবে আরেক জায়গায়।’

তাহলে ইভিএম নিয়ে আতঙ্ক আছে?

সবেদ আলী: হ্যাঁ, আতঙ্ক আছে মানুষের মধ্যে।

এই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা?

সবেদ আলী: আওয়ামী লীগের প্রার্থীর যাঁরা নির্বাচন করছেন, তাঁরা এসব আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন। মূলত ছোট মাপের নেতারা এসব ছড়াচ্ছেন বেশি।

তাঁরা কী বলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে?

সবেদ আলী: তাঁরা বলছেন, ইভিএমে মোবাইলে ভোট দিলে নৌকার হয়ে যাবে। ইভিএমে এমন কারুকার্য করা থাকবে, ৩০ শতাংশ ভোট নৌকার আগে থেকেই মেশিনে থেকে যাবে। আমরা ভোটারদের বোঝাচ্ছি যে এমন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বলছি, আপনার ভোট আপনি যাকে দেবেন, সেই পাবে।

গুজব প্রতিরোধে কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা?

সবেদ আলী: নির্বাচনী প্রচারকালে গুজব বিষয়ে ভোটারদের সতর্ক করছি। ভোটের দিন আমরা কেন্দ্রে কেন্দ্রে শক্ত এজেন্ট দেব। এবং ভোটকেন্দ্রের আশপাশে কর্মীদের রেখে দেব। নেতিবাচক খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।

বিজ্ঞাপন

আনন্দধামে মোবাইল ফোন প্রতীকের কার্যালয়ে কারা হামলা করল, হামলা করে তাদের লাভ কী?

সবেদ আলী: নৌকা মাথায় নিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করেই থানায় অভিযোগ করেছি। হামলাকারীদের ধারণা ছিল, হামলা করলে আমার কর্মীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে ও হতাশার মধ্যে পড়ে যাবে। সেই সঙ্গে হামলাকারীরা বুঝিয়ে দেবে, তারা ছাড়া মাঠে কেউ নেই। মোবাইলের ভোট করলে এমন মারধর খেতে হবে, সেই ভীতি ছড়াতে হামলা করা হয়। কিন্তু আমার কর্মীদের মনোবল আরও বেড়েছে।

আপনার পক্ষের মিছিল থেকে স্লোগান আসছিল ‘রাজাকাররা সাবধান’। এই রাজাকার বলতে আসলে কাদের বোঝানো হয়েছে?

সবেদ আলী: নৌকার প্রার্থী হাসান কাদির গণুর বাবা ইউসুফ আলী মিয়া ছিলেন এখানকার পিচ (শান্তি) কমিটির চেয়ারম্যান।

ইউসুফ আলী মিয়া যে রাজাকার ছিলেন, তাঁর পক্ষে কোনো দলিল আছে আপনার কাছে?

সবেদ আলী: আলমডাঙ্গা শহরে মিলিটারি থাকা অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধারা প্রকাশ্যে কমান্ডো হামলা চালিয়ে তাঁকে (ইউসুফ আলী মিয়া) গুলি করে হত্যা করে।

মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল আওয়ামী লীগ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠক হচ্ছেন আপনি। কেউ কেউ বলছেন, প্রার্থীর সমর্থন নিয়ে আলমডাঙ্গায় মুক্তিযোদ্ধারা উভয়সংকটে পড়েছেন। আসলেই স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান কী?

সবেদ আলী: বিষয়টি খোলামেলা। মুক্তিযোদ্ধারা আমার পক্ষেই আছেন। তার প্রমাণ, প্রতিবাদ সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধারা প্রকাশ্যেই আমার পক্ষে বক্তব্য দেন এবং বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। সব মুক্তিযোদ্ধা আমার জন্য ভোটও চাইছেন।

জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?

সবেদ আলী: পুরোপুরিই আশাবাদী। মানুষ যদি নিজের ভোট নিজে দিতে পারে, তাহলে অনেক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হব।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কী বলবেন?

সবেদ আলী: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তেমন আশঙ্কা নেই। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা বলছেন, এখানে ভোট নিরপেক্ষ হবে। তবে, প্রত্যাশা আছে শেষ পর্যন্ত তাঁরা নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন। নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

প্রথম আলো: সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
সবেদ আলী: প্রথম আলোকেও ধন্যবাদ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন