বিজ্ঞাপন

ঢালচর ইউনিয়নের ঢালচর ও চর নিজামের চারপাশে কোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নেই। নেই পর্যাপ্তসংখ্যক ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। এসব এলাকায় জেলেদের ট্রলার রাখার নিরাপদ খাল নেই। চরফ্যাশন উপজেলায় ঢালচর, কুকরি-মুকরি ও মুজিবনগর ইউনিয়ন দুর্গম। তবে কুকরি-মুকরি ও মুজিবনগর ইউনিয়নের চর পাতিলা, মুজিবনগরের সিকদারের চর এবং ঢালচর পুরোটা অরক্ষিত। জোয়ারেও এসব অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. সালাম হাওলাদার বলেন, ইউনিয়নের মানুষ সারা রাত ঘুমাতে পারেনি। তারা মালামাল নিরাপদে রাখা নিয়ে ব্যস্ত ছিল।
চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, এসব চরাঞ্চল থেকে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনার জন্যে মোট ১৫টি ট্রলার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতি ইউনিয়নের জন্য ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তবে এখনো দেওয়া হয়নি।

মনপুরা উপজেলার কলাতলি, চর ডেম্পিয়া, সোনার চর, চর সামসুদ্দিনে কোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নেই। এসব এলাকাও জোয়ারের সময় প্লাবিত হয়। লালমোহন উপজেলার চর কচ্ছপিয়া ও চর শাহজালালের একই অবস্থা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তজুমদ্দিন উপজেলার চর জহিরুদ্দিন, চর মোজাম্মেল, দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর, নেয়ামতপুর, ভবানীপুর ও মদনপুর এবং ভোলা সদর উপজেলার চর কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চর, চর বৈরাগী, বারাইপুর, ভোলার চর, কানাবগির চর, রামদাসপুর, রুপাতলি, রাজাপুর, পশ্চিম ইলিশা, ভেদুরিয়া, ভেলুমিয়া ইউনিয়ন, চর চটকিমারার চারদিকে কোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নেই। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নেই। তাই এসব এলাকার মানুষদের নিরাপদে আনার প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন।

default-image

লালমোহনের ইউএনও আল নোমান বলেন, ‘তাঁরা খাবার সংগ্রহের জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। খাবারের মজুত করতে বলেছেন। যাতে প্রয়োজনের সময় সংকট না হয়। চারটি ট্রলার রাখা হয়েছে পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জন্য। যদি কোনো খারাপ ইঙ্গিত পাই, তাহলে ব্যবস্থা নিতে পারি।

মনপুরা উপজেলার চর কলাতলির মো. মোসলেহউদ্দিন বলেন, তাঁদের এলাকায় একদফা বৃষ্টি হয়েছে, তা–ও সামান্য। বাতাস আছে, তা–ও সামান্য। তবে জোয়ারে এলাকায় দুই-তিন হাত পানি উঠে খেতের ফসল ডুবে গেছে, পুকুর তলিয়ে গেছে, পশুখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। দিনের জোয়ার এখনো আসেনি, তবে দিনের জোয়ারে পানি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ফারুক হোসেন দৌলত বলেন, ইউনিয়নে ১১টি মসজিদের ইমামকে মাইক দিয়ে সব চরবাসীকে তাদের জরুরি আসবাব গুছিয়ে রাখার জন্য বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন