বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুরুতে শুধু নিম্নবিত্ত মানুষ এ ধরনের সমিতি করলেও এখন মধ্যবিত্তরাও এসব সমিতির সদস্য হচ্ছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এ ধরনের সমিতি করেছেন।

সখীপুরের কাঁকড়াজান ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম হামিদপুর। ওই গ্রামের পল্লিচিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের গ্রামে পাঁচ থেকে ছয়টি মাংস সমিতি আছে। প্রতিবছর ঈদের দু-এক দিন আগে সঞ্চিত টাকা দিয়ে গরু কিনে জবাই করে তাঁরা মাংস ভাগাভাগি করে নেন।

ওই গ্রামের ইসমাইল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সমিতিতে ৫৩ জন সদস্য আছেন। তাঁরা প্রত্যেকে মাসে ২০০ টাকা করে জমা রাখেন। বছর ঘুরে সমিতিতে জমা হয় এক লাখ টাকার বেশি। এ টাকা দিয়ে গরু কিনে সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। প্রত্যেকের ভাগে পাঁচ থেকে ছয় কেজি করে মাংস পড়ে।

আজ রোববার সকালে রায়গঞ্জ উপজেলার রায়গঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ধানগড়া পশ্চিমপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি দুটি স্থানে গরু জবাই করে মাংস কাটছেন কসাইরা।
একটি সমিতির উদ্যোক্তা সেলিম রেজা বলেন, ‘এলাকায় অনেক আগে থেকে বন্ধুদের সঙ্গে সমিতি করে মাংস কিনি। এতে ঠকার আশঙ্কা থাকে না এবং মাংসের মান ভালো হয়।’

উপজেলার রণতিথা এলাকার দুই গৃহবধূ বলেন, সমিতির মাংস নেওয়ার জন্য সারা বছর ধরে তাঁরা টাকা জমান। ঈদের দু–এক দিন আগে গরু জবাই করা হয়। এতে ঈদের আগে থেকেই এর আমেজ শুরু হয়।

ধানগড়া বাজারের মাংস ব্যবসায়ী বাবু ইসলাম বলেন, এবার রোজার ঈদে বিভিন্ন এলাকার ৩০টি গরু জবাই করে মাংস কাটার কাজ পেয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার থেকে কাজ শুরু হয়েছে। এ কাজ কাল সোমবার সকাল পর্যন্ত চলবে বলে জানান তিনি। তাঁর দলে চারজন কসাই কাজ করেন। এবারের ঈদে সমিতির গরুর সংখ্যা গত বছরের চেয়ে বেশি বলে জানান তিনি।

সখীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল প্রথম আলোকে বলেন, সমবায় সমিতির মতো মাংস সমিতিও এখন গ্রামের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সারা বছর সমিতিতে সঞ্চয় করে ঈদের আগে পশু কিনে জবাই করে মাংস ভাগ নিচ্ছেন তাঁরা। এতে মাংসের দামও কম পড়ে এবং মাংসের মানও ভালো হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন