নাঈমুল হক বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে বালুখালী ক্যাম্পের ইরানী পাহাড়ের কাছে আগুনের ফুলকি দেখে এপিবিএন সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তার আগে আগুনে তিনটি রোহিঙ্গা বসতি ও ব্র্যাকের একটি লার্নিং সেন্টার পুড়ে যায়। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যেত। আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে, তা জানার চেষ্টা চলছে।

এপিবিএন পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আশ্রয়শিবিরে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ শরণার্থীরা উদ্বিগ্ন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নাশকতা কি না, তা অনুসন্ধান করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি বিকেলে উখিয়ার শফিউল্লাহ কাটা (ক্যাম্প-১৬) আশ্রয়শিবিরের বি ব্লকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬০০ বসতি পুড়ে ছাই হয়। এতে গৃহহীন হয়ে পড়ে অন্তত তিন হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী। একজন রোহিঙ্গার রান্নাঘরের গ্যাসের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তার আগে ২ জানুয়ারি উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের ২০ নম্বর ব্লকে অগ্নিকাণ্ডে একটি করোনা আইসোলেশন সেন্টার পুড়ে যায়। এর আগে ২০২১ সালের ২২ মার্চ উখিয়ার বালুখালীসহ পাঁচটি আশ্রয়শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসতি পুড়ে ছাই হয়েছিল। তখন ৬ শিশুসহ অন্তত ১৪ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪৫০ জন আহত হয়। গৃহহীন হয়ে পড়ে ৪৫ হাজার মানুষ।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় আট লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে আসে আরও কয়েক লাখ। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন