ওসি আহমেদ সনজুর জানান, রোহিঙ্গা শিবির থেকে অকারণে বাইরে আসার সুযোগ নেই রোহিঙ্গাদের। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্য পুরো শিবির এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবাধে ঘোরাফেরা করায় ১৩৬ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে আটক করা এসব রোহিঙ্গাকে কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তাঁরা কাজের সন্ধানে বের হয়ে আসেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। কোনো ধরনের কাজ ছাড়া ঘরে ভালো লাগে না, তাই তাঁরা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসেন।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গারা। ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাঁরা সেটা মানছেন না। রোহিঙ্গারা স্থানীয় বাসিন্দাদের বাজারে এসে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রয় করছেন। রোহিঙ্গা শিবিরে এত নিরাপত্তা জোরদার করার পরও তাঁরা কীভাবে ক্যাম্প ছেড়ে বাইরে আসছেন। অথচ স্থানীয় লোকজন অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকতেই পারছেন না।

গফুর উদ্দিন আরও জানান, রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বাইরে গিয়ে মাদক-মানব পাচার, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হন। তাঁদের কারণেই রোহিঙ্গা শিবির ও এর আশপাশে স্থানীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বাইরে আসা-যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ্দোহা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অকারণে বাইরে গিয়ে আটক হওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন