গতকাল শুক্রবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের কামালপুর চরপাড়া গ্রামে নিজ ঘর থেকে সোনিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে হালসা গ্রামে সোনিয়ার লাশ দাফন করা হয়েছে। রাতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করেন ওই গৃহবধূর বাবা কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার হালসা গ্রামের সকির উদ্দিন।

মামলার আসামিরা হলেন সোনিয়ার শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম, শাশুড়ি সায়রা খাতুন, ননদ মুক্তা খাতুন, প্রতিবেশী শাকিল হোসেন, কলিম উদ্দিন, উজ্জ্বল হোসেন, মো. রনি ও মো. শাওন। মামলায় সোনিয়ার শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে ভর্ৎসনা; প্রতিবেশী পাঁচজনের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব দেওয়াসহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা হলেও আজ শনিবার বেলা আড়াইটা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বলা হচ্ছে, মামলার খবর জানাজানির পর এজাহারভুক্ত আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।

মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র কন্যাসন্তানকে রেখে নাজমুল ইসলাম সাত মাস আগে সৌদি আরব যান। এরপর প্রতিবেশী স্কুলশিক্ষক শাকিল হোসেন নানা সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি গ্রামের আরও চারজন একইভাবে তাঁকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে সোনিয়া তাঁর শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। উল্টো সবাই গালিগালাজ করেন। এর জেরে গতকাল সকালে সোনিয়া ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বামী প্রবাসে যাওয়ার পর থেকে সোনিয়াকে কয়েকজন নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি জানার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রতিবাদ না করে তাঁকে ভর্ৎসনা করেন। এতে রাগে, ক্ষোভে ও অভিমানে সোনিয়া আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় মামলার খবর পেয়ে আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাঁদের ধরতে অভিযান চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন