বিজ্ঞাপন

বরিশাল বিভাগজুড়ে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কমিটি প্রায় ৩৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রেখেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ৮৪৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে যাতে জরুরি মুহূর্তে মানুষ আশ্রয় নিতে পারে, সে জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি রাখা আছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি বহুতল ভবনও প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা হবে।

সিপিপি সূত্র জানায়, ১ থেকে ৩ নম্বর সংকেত জারি হলে তা মুখে মুখে প্রচার করা হয়। সংকেত ৪ নম্বরে পৌঁছালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি মেগাফোনে সে সংকেত প্রচার করে। সংকেত ৫ থেকে ৭ নম্বর উঠে গেলে মাইক দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। আর সংকেত ৮ থেকে ১০ উঠে গেলে মাইক, মেগাফোনের পাশাপাশি সাইরেন ব্যবহার করে সতর্ক করার নিয়ম রয়েছে।

বরিশাল বিভাগজুড়ে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কমিটি প্রায় ৩৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রেখেছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির বরিশাল কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সব স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে বরিশাল জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের সময় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গতকাল রোববার বরিশালের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার সঙ্গে জুম কনফারেন্স করেছেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। ঘূর্ণিঝড় শুরুর আগেই সব এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করার নির্দেশনা দেওয়া হয় সভায়। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় শুরুর আগেই আশ্রয়কেন্দ্রসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবাদিপশুসহ সবাইকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।

বরিশাল জেলায় মোট ৩১৬টি বিশেষায়িত সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের মতো জেলায় ৭৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাকা ভবন রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬ লাখ ৪২ হাজার মানুষ এবং প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশু নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারবে।
সুব্রত বিশ্বাস দাস, বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার

বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, বরিশাল জেলায় মোট ৩১৬টি বিশেষায়িত সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের মতো জেলায় ৭৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাকা ভবন রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬ লাখ ৪২ হাজার মানুষ এবং প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশু নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারবে। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য আঘাত হানার খবরে ওই সব সাইক্লোন শেল্টার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৌচাগার ব্যবহার উপযোগী এবং সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া শুকনা খাবারেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রশাসন সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিতরণের জন্য জেলায় ৮৪ মেট্রিক টন চাল ও ১৫ লাখ টাকা রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

আবহাওয়া বিভাগ বলছে, আজ সকাল ৬টার পর্যবেক্ষণে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এটি চট্টগ্রাম থেকে ৬৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৬৫০ কিলোমিটার এবং পায়রা বন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। আবহাওয়া বিভাগ এ জন্য ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত জারি করেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন