পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম রোস্তম আলীর ১০১ অনিয়ম তদন্তের দাবিতে একক প্রতীকী অনশন কর্মসুচি পালন করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম আবদুল আলীম। আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম রোস্তম আলীর ১০১ অনিয়ম তদন্তের দাবিতে একক প্রতীকী অনশন কর্মসুচি পালন করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম আবদুল আলীম। আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকেপ্রথম আলো

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে ১০১টি অনিয়মের অভিযোগ তুলে আজ মঙ্গলবার সকালে এক শিক্ষক প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি পালনকারী ওই শিক্ষকের নাম এম আবদুল আলীম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরেই আবদুল আলীম উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করছেন। এর আগেও তিনি প্রশাসনিক ভবনের সামনে একক প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকাল ১০টার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। ফটকে ব্যানার ঝুলিয়ে চেয়ারে বসে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। টানা দুই ঘণ্টা একক অবস্থানের পর দুপুর ১২টার দিকে তিনি সেখান থেকে চলে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি পালনকারী ওই শিক্ষকের নাম এম আবদুল আলীম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

অনশনরত অবস্থায় শিক্ষক এম আবদুল আলীম প্রথম আলোকে বলেন, উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকে গত তিন বছরে একাডেমিক, প্রশাসনিক, আর্থিক বিষয়ে সীমাহীন দুর্নীতি করেছেন। এর মধ্যে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজে অস্বচ্ছতা ও ধীরগতি তৈরি করেছেন। ইচ্ছেমতো নকশা পরিবর্তন করে শহীদ মিনার নির্মাণ, উন্নয়ন প্রকল্পে গাড়ি কেনার আগেই জ্বালানি কেনার নামে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয়, দুর্নীতির দায়ে চাকরিচ্যুত ব্যক্তিকে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ, ১০ কোটি টাকার বই কেনায় অস্বচ্ছতা, রূপপুরের বালিশ–কাণ্ডের ঠিকাদারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজ প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম লঙ্ঘন করে গাড়ি ক্রয়সহ ১০১টি অনিয়ম করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আবদুল আলীম আরও অভিযোগ করেন, যোগ দেওয়ার পর থেকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা নিজের বাসভবনের ভাড়া ফাঁকি দিচ্ছেন। বাসভবন মেরামতের টাকা বরাদ্দ এলেও তা করেননি। রাজশাহীতে থাকা নিজের বাড়ির বিদ্যুৎ বিল ও ইন্টারনেট বিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়েছেন। বিভিন্নভাবে শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত নথি টানাটানি করছেন।

একজন শিক্ষক কী বললেন, সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। এটা ওই শিক্ষকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তিনিই জানেন, কেন এসব করছেন। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।
এম রোস্তম আলী, উপাচার্য, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আবদুল আলীম বলেন, ‘উপাচার্যের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সক্রিয় হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নিজে এসব অনিয়ম দুর্নীতি তদন্তের জন্য সুপারিশ করেছেন। ইউজিসির তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদিকে সম্প্রতি অডিটে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতেই মাঠে নেমেছি। অনিয়মগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম রোস্তম আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বচ্ছতার সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয় চলছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। একজন শিক্ষক কী বললেন, সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। এটা ওই শিক্ষকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তিনিই জানেন, কেন এসব করছেন। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন