বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের খাদে একটি মাত্র কুয়া। সেই কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করছেন শেফালী ত্রিপুরা, বনিতা ত্রিপুরাসহ কয়েকজন। পানিভর্তি একটি কুয়া থেকে তিন কলস পানি পাওয়া যায়। এরপর অপেক্ষা করতে হয় কুয়ায় পানি না ভরা পর্যন্ত। আগে আশপাশে ছোট ছোট ঝরনা থাকলেও শীতকাল থেকেই শুরু হয় পানির কষ্ট। বর্ষা না আসা পর্যন্ত চলে তাঁদের এই দুর্ভোগ।

এলাকার কার্বারি সূর্য কিরণ ত্রিপুরা বলেন, ফাগুন মাসে দেখা দিয়েছে পানির সংকট। এই এলাকার পানির উৎস বলতে পাহাড়ের নিচে ছোট ছোট কুয়া, ঝরনা। শুষ্ক মৌসুম এলেই ঝরনাগুলো শুকিয়ে যায়। বর্ষার সময় পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হলেও শুষ্ক মৌসুম দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় পানি নিয়ে ভোগান্তি।

মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা বলেন, ‘এই এলাকার বাসিন্দা আমি। পানির কষ্ট আমিও ভোগ করি। গ্রামের নারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাহাড়ি পথ হেঁটে ছোট ছোট কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করেন। ইউনিয়ন পরিষদে যে বরাদ্দ আসে, তা দিয়ে পানির ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। পানির জন্য আমি নিজেই জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অনেকবার যোগাযোগ করেছি।’

শুধু মাটিরাঙ্গা উপজেলা নয়, খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলায় অর্ধেকের বেশি মানুষ প্রাকৃতিক উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করে। এই ৯ উপজেলায় শুষ্ক মৌসুমে শুরু হয় পানির তীব্র সংকট। জনবসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গম এলাকাগুলোতে বাড়ছে পানির চাহিদা। এসব এলাকায় বসবাস করেন পাহাড়িরা।

এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী বলেন, একসময় পাহাড়ে সারা বছর পানি পাওয়া যেত। পাহাড়ের বন ধ্বংস হওয়ার কারণে পানির উৎসগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মিলে উদ্যোগ নিলে পানির এই কষ্ট কমবে।

খাগড়াছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রেবেকা আহসান মুঠোফোনে বলেন, যেসব পাহাড়ি এলাকায় পানির সংকট কিংবা পানির উৎস নেই, সেসব এলাকায় একটি সমীক্ষা করা হবে। এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাবমতে, জেলায় গভীর নলকূপ ও চাপকলের সংখ্যা ৯ হাজার ৬৮৩। এর মধ্যে বিদ্যালয়ে বসানো হয়েছে ২৩৪টি। চলতি অর্থবছরে ৩৪টি গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে। খাগড়াছড়ি জেলায় মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬ শতাংশকে পানি সরবরাহ করা হয়। অন্যরা প্রাকৃতিক উৎসের (ঝিরি, ঝরনা, কুয়া, ছড়া) ওপর নির্ভরশীল।

জেলা পরিষদ সদস্য পার্থ ত্রিপুরা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড়ে সেগুন আর রাবারগাছ লাগানোর কারণে পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া পাথুরে এলাকা হওয়ায় সমতলের তুলনায় পাহাড়ে পানির স্তর অনেক নিচে। কোনো কোনো এলাকায় ৩০০ থেকে ৫০০ ফুট নিচে গিয়েও পানির স্তর পাওয়া যায় না। ১০-১২ দিন কাজ করার পরও যখন পানির উৎস পাওয়া যায় না, তখন ঠিকাদারেরা কাজ করতে চান না। তারপরও যেখানে গভীর নলকূপ বসানো সম্ভব নয়, সেখানে কীভাবে পানির ব্যবস্থা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন