বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরের খালিশপুরে ৩৩০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টে প্রায় ১৮৫ জন চীনা নাগরিক কাজ করছেন। এই প্রকল্পে দৈনিক ভিত্তিতে আরও ৫০০-৬০০ শ্রমিক কাজ করেন। এ ছাড়া সহস্রাধিক শ্রমিক প্রতিদিন এই প্রকল্পে অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন কাজে যাতায়াত করেন। গত এক মাসে এখানে মোট ৮৫ জন চীনা নাগরিকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ১৮ মে ৪৮ জনের করোনা ধরা পড়ে। ওই দিন মোট ৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

ওই পাওয়ার প্ল্যান্টের উপপ্রকল্প পরিচালক (ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর) মো. জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গত এক মাসে (১৮ এপ্রিল থেকে ১৮ মে) প্রকল্পে কর্মরত ৮৫ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২২ জনের ইতিমধ্যে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। এখনো ৬৩ জন আক্রান্ত রোগী আছেন। প্রথম দিকে তিন–চারজনের একটু সর্দি-জ্বরের মতো উপসর্গ থাকলে তাঁদের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে ফলাফল পজিটিভ এলে গণহারে পরীক্ষা শুরু করেন তাঁরা। তবে তাঁদের কোনো গুরুতর উপসর্গ নেই। তাঁরা একই জায়গায় থাকেন। বেশির ভাগের আলাদা রুম আছে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টিনে আছেন। তাঁরা বিদেশি নাগরিক, তাই এমনিতে মানুষের সঙ্গে তেমন মেলামেশা করেন না।

মো. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, প্রকল্পে ১৮৫ জন চীনা নাগরিক এবং ৬০০ জনের মতো প্রতিদিন কাজ করতেন। সংক্রমণের পর থেকে সীমিত পরিসরে কাজ চলছে। শুক্রবার ৮৬ জন চীনা এবং ২৯৮ জন দেশি শ্রমিক কাজ করছেন। আক্রান্ত কেউ কোনোভাবেই কাজে অংশ নেন না।

খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, খালিশপুরের বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত চীনা নাগরিকদের আগে থেকে দু–একজনের করোনা ছিল। হঠাৎ একদিন বেশি ধরা পড়েছে। কিছুদিন পরপর স্বপ্রণোদিত হয়ে তাঁরা করোনা পরীক্ষা করান। আক্রান্ত চীনা নাগরিকেরা বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে আছেন। তাঁদের কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা ভালো। তাঁদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসকও আছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকেও নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সবাই ভালো আছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে আইইডিসিআরের খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক হাসনাইন শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে কিছু জানার থাকলে গণমাধ্যমকর্মীদের আইইডিসিআরের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন