হতাহতদের মধ্যে রাশেদুল জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এবং অপর তিনজন জয়রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

নিহত সুমনের লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। রাশেদুল ও তামিমকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইমন আলীর আঘাত গুরুতর না হওয়ায় সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কিশোরের এক স্বজন জানিয়েছেন, লোকনাথপুর ফুটবল মাঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উপজেলা পর্যায়ের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ সেখানে জয়রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দলের সঙ্গে ডুগডুগি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দলের খেলা ছিল।

সুমন, তামিম ও ইমন নিজ বিদ্যালয়ের খেলা দেখতে যেতে চাইলে তাদের বন্ধু রাশেদুল তার খালাতো ভাইয়ের মোটরসাইকেল নিয়ে আসে। এরপর চারজন ওই মোটরসাইকেলে করে লোকনাথপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, রাশেদুল বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল এবং পেছনের থাকা তিনজন হইহুল্লোড় করছিল। বেলা পৌনে তিনটার দিকে জয়রামপুর কাঁঠালতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে চারজনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে।

খবর পেয়ে দর্শনা থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আহত কিশোরদের উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। তাদের মধ্যে ইমনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। বাকি তিনজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুমন আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় রাশেদুল ও তামিমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কাঁঠালতলা এলাকায় একটি রিকশাকে পাশ কাটাতে গেলে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় বলে আহত ইমন জানায়। দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ট্রাক নিয়ে চালক পালিয়ে গেছেন। নিহত কিশোরের লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন