এত এত অভিযোগ ফার্মেসির বিরুদ্ধে, দণ্ড ৫০ হাজার

বিজ্ঞাপন
default-image

ড্রাগ লাইসেন্স নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুমোদনহীন ও মানহীন ভুয়া কোম্পানির ওষুধের ছড়াছড়ি। ওষুধ সংরক্ষণের নিয়ম মানারও বালাই নেই। এমন নানা অভিযোগ বগুড়ার এক ফার্মেসির বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার ওই ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিক্রয়নিষিদ্ধ ওষুধ জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ফার্মেসি মালিককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। জরিমানা হওয়া ব্যক্তির নাম রাজ কুমার। তিনি রাজ ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী। বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কের বিআরটিসি মার্কেটে এই ওষুধের দোকানের অবস্থান।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে এই অভিযান পরিচালিত হয়। বগুড়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ টি এম কামরুল ইসলাম এতে নেতৃত্ব দেন। উপস্থিত ছিলেন ওষুধ বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রহমত উল্লাহ, পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক শাহ আলীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রাজ ফার্মেসির কোনো বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স নেই। শাজাহানপুরের রানীরহাট বাজারের ঠিকানায় মেয়াদোত্তীর্ণ একটি ড্রাগ লাইসেন্স রয়েছে। সেটা ব্যবহার করে অবৈধভাবে রাজ ফার্মেসি পরিচালনা করা হচ্ছিল। এখানে রফিক ফার্মাসিউটিক্যালস নামে একটি ভুয়া কোম্পানির মানহীন ওষুধ বিক্রি ও মজুত করা হচ্ছিল। রাজ ফার্মেসিতে বেশ কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও পাওয়া যায়। তা ছাড়া কিছু ওষুধ সংরক্ষণ করার কথা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। কিন্তু সেসব ওষুধও সংরক্ষণ করা হচ্ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরের তাপমাত্রায়। দোকানটিতে বিক্রয়নিষিদ্ধ ওষুধও মিলেছে। সব মিলিয়ে লক্ষাধিক টাকার ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওষুধ আইনে ফার্মেসি মালিক রাজ কুমারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে এই অর্থ আদায় করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে জেলা প্রশাসনের জুডিশিয়াল মুনশিখানা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বগুড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আরও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে ৮৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। মামলা দেওয়া হয়েছে মোট সাতটি। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ফেরদৌস আরা, এ টি এম কামরুল ইসলাম, মারুফ আফজাল, মো. তাসনিমুজ্জামান ও মো. নাছিম রেজা।

লাইসেন্সবিহীন এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ঘটনায় একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনার ঘটনায় ‘দুরন্ত সাইকেল’ নামে একটি শোরুমকে ১০ হাজার টাকা, ‘হোসেন ট্রেডার্স’ নামে একটি সাইকেলের দোকানকে ৫ হাজার টাকা, ‘দি প্যালেস সাইকেল’ নামে একটি দোকানকে ১০ হাজার টাকা এবং একই অপরাধে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে তিন হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন