স্থানীয় বাসিন্দা, পাউবো ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ উপজেলার চরহাইজদা উপপ্রকল্প ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের দৈর্ঘ্য ৬১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটারের অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ২০১৯ সালে অংশ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে প্রায় ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়। ওই বাঁধের মধ্যে জেলার সবচেয়ে বড় হাওর ডিঙ্গাপোতার সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানসহ পাশের খালিয়াজুরির কয়েকটি হাওরের ফসল। কিন্তু গত বুধবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা জালালের কুড় এলাকায় স্থায়ী বাঁধটি ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ভোরে কৃষকেরা খেতে ধান কাটতে গিয়ে হাওরে পানি ঢুকতে দেখে বিষয়টি টের পান। পরে খবর পেয়ে পাউবোর নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল, মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ আকঞ্জিসহ পাউবোর ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বাঁধটি ভেঙে ডিঙ্গাপোতা হাওরের প্রায় শতাধিক একর জমির বোরো ধানে পানি ঢুকছে। তবে যন্ত্রের সাহায্যে দ্রুত ধান কেটে ফেলায় এখন পর্যন্ত কোনো ফসলহানির ঘটনা ঘটেনি বলে জানান স্থানীয় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

default-image

খুরশিমুল গ্রামের কৃষক দুর্গেশ চক্রবর্তী জানান, তিনি ডিঙ্গাপোতা হাওরে এবার ৩০ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ২৯ একর জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকায় আজ সকালে বাকি খেতের ধান কাটতে শুরু করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জের ইউএনও সাব্বির হোসেন আকঞ্জি বলেন, উপজেলার ডিঙ্গাপোতাসহ সব হাওরের প্রায় ৯৫ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। আর দুই–একদিনের মধ্যে শতভাগ ধান কাটা হয়ে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, স্থায়ী বাঁধের জালালের কুড়ের কিছু অংশ দুর্বৃত্তরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেটে দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। হাওরে পানি ঢুকলেও এখনো কোনো ফসলহানির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় দেড় বছর হলো চরহাইজদা স্থায়ী বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধটি নকশা অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্মাণ করা হয়। হাওরে দুই দফা পানি বৃদ্ধির পরও বাঁধে কোনো সমস্যা হয়নি। এখন পানি অনেক কমে গেছে। বাঁধে চাপ নেই। গত বুধবার রাত ১২টার দিকেও পাউবোর কর্মকর্তাসহ স্থানীয় লোকজন বাঁধটি ভালো অবস্থায় দেখে এসেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নাশকতার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে বাঁধটি কেটে দিয়েছে। এ ব্যাপারে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী সোহাগ ফকির থানায় একটি জিডি করেছেন।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘পানির চাপে চরহাইজদা স্থায়ী বেড়বাঁধ ভাঙার কোনো কারণই নেই। এটা এক ধরনের নাশকতা। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে স্থায়ী বেড়িবাঁধ করে দিচ্ছে, আর দুর্বৃত্তরা এটা কেটে দেবে, কৃষকের ক্ষতি করবে, তা হতে পারে না। বিষয়টি তদন্ত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন