বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এহসান গ্রুপের কর্মী ও নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ী গ্রামের মাসউদুর রহমান বলেন, রাগীব আহসান ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন মাহফিলে শরিয়তসম্মত সুদবিহীন বিনিয়োগের কথা বলে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতেন। এ জন্য তিনি মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমামদের কর্মী ও মাঠ কর্মকর্তা (এফও) নিয়োগ দেন। সুদবিহীন বিনিয়োগের কথা শুনে তাঁরা এহসান গ্রুপের কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর গ্রাহকদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা তুলে এহসান গ্রুপে জমা দেন। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতারণা শুরু করে।

মাসউদুর রহমান বলেন, এহসান গ্রুপে আমানত রাখা গ্রাহকদের বেশির ভাগ দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ। তাঁরা কষ্ট করে টাকা সঞ্চয় করে মুনাফা পাওয়ার আশায় টাকা এহসান গ্রুপে রেখেছিলেন। দরিদ্র অসহায় শ্রমজীবী মানুষেরা তাঁদের সঞ্চয় করা টাকা ফেরত না পেয়ে পথে বসেছেন।

মাসউদুর রহমান আরও বলেন, এখন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা টাকার জন্য কর্মীদের কাছে তাগাদা দিচ্ছেন। তাঁর বাবা শামসুল হক এহসান গ্রুপের একজন কর্মী। এহসান গ্রুপের কাছে জমা টাকা ফেরত চেয়ে না পেয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর পিরোজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি বাদী হয়ে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব আহসানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৩ হাজার ৯৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। ওই টাকা শামসুল হকসহ ১৫ জন কর্মী বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকের কাছ থেকে তুলে এহসান গ্রুপে জমা দেন।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ জেড এম মাসুদুজ্জামান বলেন, এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে থানায় করা পাঁচটি মামলা সিঅইডি ও পিবিআই তদন্ত করছে। এ ছাড়া আদালতেও মামলা রয়েছে।

প্রতারণা ও জালিয়াতি করে গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তোপখানা রোড এলাকা থেকে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব আহসান ও তাঁর ভাই আবুল বাশার খানকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ওই দিন বিকেলে পিরোজপুর সদর থানা-পুলিশ রাগীব আহসানের দুই ভাই মাহমুদুল হাসান ও খাইরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাঁরা পিরোজপুর কারাগারে রয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন