বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরেজমিন দেখা যায়, সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে যাত্রী পরিবহনকারী বাসগুলো রাখা রয়েছে। সেগুলো ধোয়া-মোছা করছেন পরিবহনশ্রমিকেরা। টার্মিনালে যাত্রীদের তেমন একটা উপস্থিতি নেই। তবে হুমায়ূন রশীদ চত্বর এলাকায় মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক, মোটরসাইকেলচালক, লেগুনাচালকদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। সেখান থেকেই গন্তব্যে যাওয়ার জন্য যাত্রীরা ভিড় করছিলেন।

ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। অতিরিক্ত ভাড়ায় বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

যাত্রীরা বলেন, বাস চলাচল না করায় পরিস্থিতি ও সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছেন অন্য যানের চালকেরা। এরপরও বাধ্য হয়েই যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে যানবাহন চলাচলের কোনো নির্দিষ্ট সময় না থাকায় আসন খালি থাকার অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার পরও গাড়ি ছাড়তে বিলম্ব করছেন চালকেরা।

default-image

শায়েস্তাগঞ্জের যাত্রী সোহেল আহমদ বলেন, ১২০ টাকার ভাড়া চাচ্ছে ৩৫০ টাকা। এ ছাড়া মোটরসাইকেলে দুই যাত্রীর জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা দাবি করেছে। এত বেশি ভাড়ায় যাতায়াত করা সাধারণ যাত্রীদের জন্য কষ্টকর। তবে যাঁদের জরুরি কাজ রয়েছে এবং চাকরিজীবীরা কর্মস্থলে যেতে বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়ায়ও যাচ্ছেন।

মাইক্রোবাসচালক জয়নাল আহমদ বলেন, স্ট্যান্ড থেকে সাধারণ দিনে চুক্তিতে যাতায়াত করেন তাঁরা। তবে বাস চলাচল না করায় যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে গণপরিবহন হিসেবেই যাত্রী পরিবহন করছেন। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাইক্রোবাসের ভাড়া সাধারণত বাস থেকে কিছুটা বেশি থাকবে, এটা স্বাভাবিক।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, ট্রাক-বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির ডাকা ধর্মঘটে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করা না হলে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করায় আমরা এ ধর্মঘট পালন করছি। দাবি আদায় কিংবা এর কোনো সুরাহা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথা রয়েছে।’

এদিকে সিলেট থেকে সারা দেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ট্রেনে শুক্রবার থেকে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তবে আসন ছাড়া কোনো টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন