বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গবেষকেরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিমগাছে পোকার আক্রমণ বেশি দেখা দিয়েছে। বছরের একটা সময় গাছের পাতা মরে যাচ্ছে। পরে আবার নতুন পাতা গজালেও সব গাছ আর আগের চেহারায় ফিরতে পারছে না।

প্রায় দুই বছর আগে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বন রক্ষণ বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা (বন রোগতত্ত্ব) আহসানুর রহমান এবং চট্টগ্রামের দুজন বিজ্ঞানী রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার নিমগাছ দেখতে এসেছিলেন। তাঁরা রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নিমগাছের মড়কের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

গত নভেম্বর মাসেও ইনস্টিটিউটের গবেষণা কর্মকর্তা মো. জুনায়েদ ও ফিল্ড ইনভেস্টিগেটর কাজী আসাদুজ্জামান এসেছিলেন। তাঁরাও ইনস্টিটিউটের বন রক্ষণ বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় কর্মকর্তা আহসানুর রহমানের নেতৃত্বে গবেষণার কাজ করেন। নভেম্বরে তাঁদের তৈরি করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের মহারাজপুরের ৮০ শতাংশ নিমগাছ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ মরে গেছে ৩ শতাংশ গাছ।

এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের স্টেডিয়াম এলাকায় ৪০ দশমিক ৮০ শতাংশ নিমগাছও রোগে আক্রান্ত। তবে এই এলাকার গাছগুলো এখনো পুরোপুরি মরে যায়নি। গোমস্তাপুরের ভোগলা এলাকায় ৮০ শতাংশ, নাচোলের কালোইরে ৪৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ গাছ আক্রান্ত হয়েছে। তবে মরে যাওয়ার দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ নিমগাছ মরে গেছে শিবগঞ্জের জগন্নাথপুরের।

রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধে ৯৩, বাগমারা উপজেলায় ৩২ দশমিক ৬০ ও তাহেরপুর-মোহনপুর সড়কে ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ নিমগাছ রোগে আক্রান্ত।

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বন রক্ষণ বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় কর্মকর্তা আহসানুর রহমান বলেন, প্রথম দফায় সরেজমিনে ঘুরে তাঁরা নিমগাছগুলোতে একধরনের পোকার উপস্থিতি পেয়েছিলেন। গত নভেম্বরে আক্রান্ত গাছগুলোতে আঠাঝরা রোগও দেখা যায়। এর প্রতিকার হিসেবে বোর্দো মিক্সচার ও বোর্দো পেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। কেন আঠাঝরা রোগের প্রাদুর্ভাব হচ্ছে, তা নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে।

সরকারি জায়গায় রোপণ করা নিমগাছগুলোর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারে সামাজিক বন বিভাগ। জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নিয়ামুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নিমগাছের রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোনো খবর তাঁর জানা নেই। এ নিয়ে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট কাজ করে। তারা ব্যবস্থাপত্র দিলে সে অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিগ্রামের শাহ কৃষিতথ্য পাঠাগার ও জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর শাহ নিমগাছের পাতা, বীজ ও বাকলের রস দিয়ে বালাইনাশক তৈরি করেন। জাহাঙ্গীর বলেন, পরিবেশের জন্য উপকারী নিমগাছের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। সবাই এই গাছ থেকে উপকার পেতে চান, কিন্তু যত্ন নেওয়ার কেউ নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন