বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ডাকাডাকি করে কারও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। তখন একজন কাঠমিস্ত্রিকে দিয়ে দরজা খুলে দেখা যায়, কক্ষের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই তরুণীর লাশ পড়ে আছে। ওই তরুণীর স্বামী পরিচয় দেওয়া সাগর পেছনের জানালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন।

পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে মো. সাগর নামের এক তরুণ হোটেলের ১০৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। দুই দিন পর ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ফারজানাকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে তোলেন সাগর। এরপর সাগর ১০৮ নম্বর কক্ষ ছেড়ে একই হোটেলের ৪০৮ নম্বর কক্ষে যান। ওই কক্ষেই তাঁরা দুজন অবস্থান করেন।

হোটেলের ব্যবস্থাপক মনজুর আলম বলেন, গতকাল সকালে ওই কক্ষের বাতি জ্বলতে না দেখে হোটেলের কর্মচারীদের সন্দেহ হয়। এরপর ডাকাডাকি করে কারও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। তখন একজন কাঠমিস্ত্রিকে দিয়ে দরজা খুলে দেখা যায়, কক্ষের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই তরুণীর লাশ পড়ে আছে। ওই তরুণীর স্বামী পরিচয় দেওয়া সাগর পেছনের জানালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে মো. সাগরসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ এ মামলার তদন্ত করছে।

ক্সবাজারের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের কক্ষে একাধিক খুনের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনোটির রহস্য উদ্‌ঘাটিত হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ রেজিস্টারে অতিথিদের পূর্ণ নাম-ঠিকানাসহ অতিথির ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে না।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে দুই তরুণ-তরুণী হোটেলে ওঠেন। কিন্তু রেজিস্টারে দুজনের ঠিকানা ঠিকমতো লিপিবদ্ধ হয়নি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শাহীন মো. আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, আজ সকালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে লাশ পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পুলিশ লাশটি হাসপাতালের হিমাগারে রেখেছে।

হোটেলে খুন কেন

কক্সবাজারের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের কক্ষে একাধিক খুনের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনোটির রহস্য উদ্‌ঘাটিত হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ রেজিস্টারে অতিথিদের পূর্ণ নাম-ঠিকানাসহ অতিথির ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে না। কিছু হোটেলে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো থাকলেও অধিকাংশ হোটেল-মোটেলে নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। ফলে হোটেলকক্ষে প্রায়ই এমন খুনের ঘটনা ঘটছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৯ এপ্রিল কলাতলী এলাকার সি-পার্ল নামে একটি হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তাঁরা হোটেলের কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। ওই তরুণীকে হত্যার পর লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

১৭ মার্চ একই এলাকার আরেক আবাসিক হোটেল সুইট হোম রিসোর্টের একটি কক্ষ থেকে আবদুল মালেক নামে এক তরুণের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই চট্টগ্রামের কর্ণফুলী সেতু এলাকায় একটি যাত্রাবাহী বাস তল্লাশি করে পুলিশ ঢাকার মালিবাগ এলাকার মো. বাবু ও নজরুল ইসলাম নামের দুজনকে আটক করেছিল। পুলিশ জানায়, আবদুল মালেক ও আটক হওয়া দুজন ঘটনার দুই দিন আগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার ভ্রমণে এসে ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন। সেখানে পরিকল্পিতভাবে আবদুল মালেককে হত্যা করে দুই তরুণ পালাচ্ছিলেন বলে পুলিশের ধারণা।

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, হাজার রকমের মানুষ সৈকত ভ্রমণে আসেন। নিরাপত্তার জন্য হোটেলমালিকেরা কক্ষের বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। রেজিস্টারে অতিথির পূর্ণ নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করেন। কিন্তু অনেকে আপত্তি করেন বলে অতিথিদের ছবি তোলা হয় না। তবে কিছু কিছু হোটেলে অতিথির জাতীয় পরিচয়পত্র, মুঠোফোন নম্বরসহ সঠিক ঠিকানা লিপিবদ্ধ করা হয়। ফলে ভ্রমণের নামে হোটেলকক্ষে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটছে। কিন্তু হোটেলকক্ষের ভেতরে কী হচ্ছে, মালিকপক্ষের তরফ থেকে সেটি তদারক করা সম্ভব হয় না, এটা করা অনুচিতও।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন