বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রের ৯ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা গেল, অন্য সবার সঙ্গে বসে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোবারক। কবজিবিহীন দুই হাত একত্রে করে উত্তরপত্রে লিখছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে গণিত বিষয়ের পরীক্ষা দিচ্ছে সে। অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা দিয়ে হল ত্যাগ করে।

এভাবে পিইসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। ২০১৮ জেএসসি (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষায়ও পেয়েছে জিপিএ-৫।

মোবারকের বাবা এনামুল হক বলেন, জন্ম থেকে দুই হাতের কবজি ছিল না মোবারক আলীর। তাকে নিয়ে চিন্তায় ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কী হবে প্রতিবন্ধী সন্তানকে দিয়ে। মোবারক আলীর বেড়ে ওঠায় তার মা মরিয়ম বেগমের চেষ্টার কমতি ছিল না। ছেলের এমন অবস্থায় বিচলিত হলেও ভেঙে পড়েননি তিনি। মায়ের সাহসে ছেলেকে স্কুলমুখী করে দুই হাত একখানে করে কলম দিয়ে খাতায় লেখার কৌশল শেখান। বিদ্যালয়ে ভর্তি পর সহযোগিতা করে অন্য ছাত্ররাও। এভাবে পিইসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। ২০১৮ জেএসসি (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষায়ও পেয়েছে জিপিএ-৫।

মোবারক আলীর মা মরিয়ম বেগম বলেন, দুই ভাই এক বোনের মধ্যে মোবারক বড়। সে নিজের কাজগুলো প্রায় সব নিজেই করতে পারে। ওর ইচ্ছাশক্তি প্রবল। তাঁরা গরিব মানুষ, তবু চেষ্টা করছেন লেখাপড়া শিখিয়ে ছেলেকে মানুষ করতে।

কাশিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোবারক আলী বলে, ‘লেখাপড়া করতে কখনো পিছপা হইনি। কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন ভালো রেজাল্ট করে মা–বাবাসহ শিক্ষকদের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি।’

কাশিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জায়দুল হক বলেন, মোবারক প্রতিবন্ধী হলেও যথেষ্ট মেধাবী এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও পারদর্শী। তিনি আশা করছেন সে এসএসসি পরীক্ষায়ও ভালো ফল করবে।

ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিব গোলাম কিবরিয়া জানান, মোবারক আলী অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই প্রতিটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে নির্দিষ্ট সময়েই পরীক্ষার খাতায় লেখা শেষ করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন