বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকে ৫০০ জনকে করোনা টিকা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। দুপুর ১২টায় হোসনা করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিতে ওই কমিউনিটি ক্লিনিকে যান। সে সময় ক্লিনিকের দায়িত্বরত হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মতিউর রহমান তাঁকে টিকা দেন। কিছুক্ষণ পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মাসুম মিয়ার সঙ্গে পাঁচ বছর আগে হোসনার বিয়ে হয়। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন।

হোসনার মা শামসুন্নাহার বেগম বলেন, ‘আমার এই মেয়ে আরেক মেয়ের সঙ্গে টিকা দিতে ওই কেন্দ্রে গিয়েছিল। টিকা দেওয়ার পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন।’

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মতিউর রহমান বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে অন্যদের সঙ্গে হোসনা আক্তারও টিকা নিতে কেন্দ্রে আসেন। টিকা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর শুনতে পাই স্থানীয় পুকুরপাড়ে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁর মাথায় অনেকে পানি দেয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রঞ্জন বর্মণ প্রথম আলোকে বলেন, একটি ভায়াল থেকে পাঁচজনকে টিকা দেওয়া হয়। একই ভায়াল থেকে তাঁর (হোসনা) বোনসহ পাঁচজন টিকা নিয়েছেন। বাকিরা সুস্থ আছেন। তাঁদের কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। পরিবার থেকে জানা গেছে, হোসনার অ্যালার্জিজনিত সমস্যা ছিল। তিনি নিম্ন রক্তচাপের রোগী ছিলেন। তার ওপর তিনি সকালে কিছু না খেয়েই দুপুরে টিকা নিতে এসেছেন।

রঞ্জন বর্মণ বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেকেই বিভিন্ন অনলাইনের দোকান থেকে টিকার জন্য নিবন্ধন করেন। নিবন্ধন করার সময় বিভিন্ন রোগের তথ্য পূরণ করতে হয়। অনেকেই বিষয়টি না বুঝে পূরণ করেন। এটা সঠিক নয়। অনলাইনে নিবন্ধন ফরম পূরণের সময় তিনি (হোসনা) হয়তো নিজের শারীরিক সমস্যা সম্পর্কিত তথ্যগুলোর ঘরে টিকচিহ্ন দেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে টিকার ১-২ শতাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন