বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশালে ৪ হাজার ৩৬৯, পটুয়াখালীতে ৭ হাজার ৩৪১, ভোলায় ৮ হাজার ৯০, পিরোজপুরে ৪ হাজার ২, বরগুনায় ৪ হাজার ৮৪৯ ও ঝালকাঠিতে ৩ হাজার ৫৩২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, এমন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চেয়ে অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে গত দুই সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২০ জন। এঁদের মধ্যে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের ১২ জন। মৃত বাকি ৮ জনের মধ্যে বরগুনার ৪ জন, বাকেরগঞ্জের ২ জন এবং পটুয়াখালী সদর ও বাউফলের ১ জন করে রয়েছেন।

আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বিভাগের ছয় জেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীদের শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। শয্যা না পেয়ে মেঝে, করিডর, বারান্দা এমনকি বাইরে গাছতলাতেও রোগীদের রাখা হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, শয্যাসংকটের পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী আইভি স্যালাইনও পাচ্ছেন না। বাইরে থেকে উচ্চ মূল্যে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে। ৯০ টাকার স্যালাইন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়।

বরিশালের ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বরিশাল সদর হাসপাতালে। হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসক (আরপি) মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় প্যান্ডেল করে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সামনে আরও বেড বসিয়েও জায়গা হচ্ছে না। স্যালাইন সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, একজন রোগীর অনেক বেশি স্যালাইনের প্রয়োজন হলে তা হয়তো দেওয়া সম্ভব হয় না, কিন্তু দুই থেকে পাঁচটা স্যালাইন রোগীপ্রতি গড়ে দেওয়া হচ্ছে।

ঘরে ঘরে ডায়রিয়া

মির্জাগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, তাঁদের এলাকার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়া। হাসপাতালে জায়গা নেই বলে বেশির ভাগ মানুষই বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাড়িতেই মারা যাচ্ছেন অনেকে। মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম লিটন সিকদার বলেন, ইউনিয়নের প্রায় বাড়িতেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন কেউ না কেউ। গত কয়েক দিনে শুধু মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নেই মারা গেছেন ৭ জন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিলরুবা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা এবং জনবল কম থাকায় শুধু ডায়রিয়ার রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে কিছু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তিদের ডায়রিয়ার উপসর্গ ছিল, তবে তাদের অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল পর্যন্ত ১২ দিনে মির্জাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়ার সময় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে এসব মৃত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা গোপন করায় বিষয়টি স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসেনি। মির্জাগঞ্জে ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং আক্রান্ত জরুরি কোনো রোগী যাতে বাড়িতে চিকিৎসা না নেয়, সে ব্যাপারে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনকে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন