default-image

কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) রোগের সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় ধরে লড়াই করে হেরে গেলেন আরও এক চিকিৎসক। তাঁর নাম নির্মলেন্দু চৌধুরী (৬০) । তিনি আজ মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে ঢাকার আসগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

পারিবারিক সূত্র জানায়, নির্মলেন্দু চৌধুরী ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথের সাবেক পরিচালক এবং বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালক ছিলেন। রংপুর মেডিকেল কলেজের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নির্মলেন্দু চৌধুরী বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌর এলাকার বোরাইপাড়া মহল্লার নিপেন্দ্র নারায়ন চৌধুরীর ছেলে। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি দুপচাঁচিয়া পৌর শহরে নিজের সুপ্রিম ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
নির্মলেন্দু চৌধুরী ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথের সাবেক পরিচালক এবং বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালক ছিলেন। রংপুর মেডিকেল কলেজের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নির্মলেন্দু চৌধুরী বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌর এলাকার বোরাইপাড়া মহল্লার নিপেন্দ্র নারায়ন চৌধুরীর ছেলে।

নির্মলেন্দু চৌধুরীর ছেলে সিদ্ধার্থ চৌধুরীও একজন চিকিৎসক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বাবার শ্বাসকষ্টসহ নানা উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা সংগ্রহ করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের  ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে গত ৩ আগস্ট আসা প্রতিবেদনে তিনি করোনা পজিটিভ উল্লেখ করা হয়। ওই দিনই তাঁকে নিজেদের সুপ্রিম ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ৭ আগস্ট  বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই হাসপাতাল  থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই দিনই তাঁকে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সিদ্ধার্থ চৌধুরী আরও বলেন, শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়াসহ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৯ আগস্ট তাঁর বাবা নির্মলেন্দু চৌধুরীকে ধুপখোলা আসগর আলী হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়। ২৪ আগস্ট থেকে একই হাসপাতালে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আজ বেলা দুইটার দিকে তিনি মারা যান।

নির্মলেন্দু চৌধুরীর ছোট ভাই কলেজশিক্ষক পরিমল চৌধুরী বলেন, ১৯৭৫ সালে দুপচাঁচিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৭ সালে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন তাঁর ভাই। তিনি বগুড়া ও গাইবান্ধার সিভিল সার্জন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আগামীকাল বুধবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

নির্মলেন্দু চৌধুরীর মৃত্যুতে বিএমএ বগুড়া শাখার পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। বিএমএ জেলা শাখার সভাপতি মোস্তফা আলম ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আলম স্বাক্ষরিত শোকবার্তায় ওই চিকিৎসকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন ছাড়াও তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, আজ পর্যন্ত বগুড়ায় কোভিড পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৯১ জন। তাঁদের মধ্যে মারা গেছেন ১৬০ জন।

মন্তব্য পড়ুন 0