বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চায়না বেগম বলেন, তাঁর স্বামী আজিমুল হক গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে মালি পদে চাকরিরত অবস্থায় গত বছরের ৭ নভেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর তিনি স্বামীর বেতন–ভাতা ও ভবিষ্য তহবিলসহ অন্যান্য প্রাপ্ত টাকার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। এরপর থেকে তিনি অফিসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগযোগ করতে থাকেন। কিন্তু কাকলী বালা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পাঁচ মাস পার হলেও কাকলী তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। এরপর তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রাম থেকে সিভিল সার্জন অফিসে বারবার গিয়েও কোনো সমাধান পাননি।

চায়না বেগম আরও বলেন, ‘৮ জুলাই বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারি সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষক কাম ক্যাশিয়ার কাকলী বালা আমার স্বামীর প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা অনেক আগেই উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এরপর অফিসে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি আমি নিশ্চিত হই। বিষয়টি সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদকে জানালে তিনি আমার স্বামীর প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা এক মাসের মধ্যে দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।’

চায়না বেগম অভিযোগ করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার স্বামীর প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পাওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

কাকলী বালার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিভিল সার্জন করোনায় মৃত্যুবরণকারী মালি আজিমুল হক চৌধুরীর প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৯ লাখ ৬১ হাজার টাকার চেকে গত ১৯ জানুয়ারি স্বাক্ষর করেন। এরপর ২৬ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে চেকটি পাস হয়। এরপর ব্যাংক থেকে টাকাটা উত্তোলন করে আমি আমার কাছে রাখি। ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আমি টাকা খরচ করে ফেলেছি। আমি অপরাধ করেছি। এক মাসের মধ্যে আমি ওই কর্মচারীর প্রভিডেন্ট ফান্ডের সব টাকা তাঁর পরিবারের কাছে ফেরত দিয়ে দেব বলে সিভিল সার্জনের কাছে অঙ্গীকার করেছি। আমার অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। কাকলী বালা তাঁর অপরাধ স্বীকার করেছেন। ইতিমধ্যে তাঁকে ক্যাশিয়ার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনায় মৃত্যুবরণকারী স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মচারীর জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা উত্তোলন করার পর নমিনিকে টাকা বুঝিয়ে না দিয়ে তিনি গুরুতর অপরাধ করেছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে ওই কর্মচারীর নমিনিকে (স্ত্রী) সমুদয় টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি (কাকলী) আমার কাছে অঙ্গীকার করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন