default-image

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি এ হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে।

কলাপাড়া পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চতুর্থ ধাপে ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হ‌ুমায়ূন কবির বলেন, এ নির্বাচনের জন্য তাঁরা দলীয় কার্যালয়ে বসে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বহিরাগত লোকজন ১০-১২টি মোটরসাইকেলে করে এসে তাঁদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা চেয়ার-টেবিল ছুড়ে ফেলে দেয়। এতে উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য সোহেল দেওয়ান (৪২), লালুয়া ইউনিয়নের যুবদলের সদস্য মো. মামুন (৪৫) ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আজাদ (৩২) আহত হয়েছেন।

ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বহিরাগত লোকজন ১০-১২টি মোটরসাইকেলে করে এসে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী।

হ‌ুমায়ূন কবির আরও বলেন, এ হামলার মাধ্যমে কলাপাড়া পৌরসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করে আওয়ামী লীগ তাঁদের দলীয় প্রার্থীকে যেনতেনভাবে জয়ী করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তা ছাড়া পৌরসভায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে জড়ো হয়েছে। সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলের মহড়া দিয়ে শহরে আতঙ্ক আর ত্রাসের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এতে সাধারণ মানুষসহ ভোটাররা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে হলে কলাপাড়া শহর থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বের করে দিতে হবে, না হয় কোনোভাবেই সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্ভব হবে না। সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল করার পাঁয়তারা করছে।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির কয়েকজন কর্মী জানান, হামলার সময় দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেনসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। হামলাকারীরা এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. হ‌ুমায়ূন কবিরকে লক্ষ্য করেই মূলত হামলা চালিয়েছে। অল্পের জন্য এ দুজন নেতা রক্ষা পান। তাঁরা দৌড়ে অফিস থেকে বের হয়ে আত্মরক্ষা করেন।

হামলার কথা শুনেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে সেখানে কাউকেই পাওয়া যায়নি। আমরা ইতিমধ্যে শহরে পুলিশি টহল বাড়িয়েছি। তা ছাড়া এখন পরিস্থিতিও শান্ত রয়েছে।
মো. আশাদুর রহমান, পরিদর্শক (তদন্ত), কলাপাড়া থানা

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কলাপাড়া পৌরসভা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মোতালেব তালুকদার বলেন, ‘হামলা হয়েছে এমন খবর কেবলই শুনলাম। এখন কে বা কারা হামলা করেছে তা আমি জানি না। আমি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব।’

কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশাদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘হামলার কথা শুনেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে সেখানে কাউকেই পাওয়া যায়নি। আমরা ইতিমধ্যে শহরে পুলিশি টহল বাড়িয়েছি। তা ছাড়া এখন পরিস্থিতিও শান্ত রয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন