বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া কী?

খন্দকার মো. ফয়সল আলম: মানবদেহের অন্ত্রে বাসকরা কিছু ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়াকে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া বলা হয়ে থাকে। এদের মধ্যে প্রধানতম হলো E. coli|। একে জনস্বাস্থ্যের ভাষায় ইন্ডিকেটর ব্যাকটেরিয়াও বলা হয়।

এই ব্যাকটেরিয়ার উৎস কী?

খন্দকার মো. ফয়সল আলম: স্তন্যপায়ী প্রাণীর অন্ত্র এই ব্যাকটেরিয়ার উৎস। যদিও প্রকৃতিতে বা মাটিতে এ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি খুব স্বাভাবিক, কিন্তু পানিতে এ রকম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ঘটলে বুঝতে হবে সেই পানিতে প্রাণিজ বর্জ্যের মিশ্রণ ঘটেছে।

পানিতে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি কী ধরনের ক্ষতি করে?

খন্দকার মো. ফয়সল আলম: কলিফর্মের উপস্থিতি বিভিন্ন আন্ত্রিক ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি করে। মিশ্রিত পানি পানের মাধ্যমে ডায়রিয়া, আমাশয়, রক্ত আমাশয়, কলেরা, টাইফয়েড ছাড়াও ভাইরাল হেপাটাইটিস (জন্ডিস) রোগের সূচনা করে।

কীভাবে পানিতে এই ব্যাকটেরিয়া মিশে?

খন্দকার মো. ফয়সল আলম: পানিতে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেলে ধরে নিতে হবে যে, পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটি আছে।

রাজশাহীর পানিতে এর উপস্থিতি কীভাবে ঘটছে?

খন্দকার মো. ফয়সল আলম: রাজশাহীতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সুপ্রাচীন। সরবরাহ করা পানিও দূষণমুক্ত। বলা যায়, তুলোনামূলকভাবে বাংলাদেশের অন্যান্য নগরের চাইতে ভালো। তবে সম্প্রতি রাস্তা নিমার্ণে অসতর্কতার কারণে পাইপের লিকেজ হচ্ছে। ফলে ড্রেনের ময়লা পানি পাইপের পানিকে দূষিত করে ফেলছে।

এই মহূর্তে নগরবাসীর পানি পানে কী ধরনের সতর্ককর্তা অবলম্বন করা দরকার বলে মনে করেন?

খন্দকার মো. ফয়সল আলম: এই মুহূর্তে জনগণের উচিত সরবরাহ করা পানি ১৫ মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করা বা বিকল্প হিসেবে নলকূপের পানি পান করা।
প্রথম আলো: এ নিয়ে সিটি করপোরেশনের করণীয় কী হতে পারে?
খন্দকার মো. ফয়সল আলম: রাস্তা খননের সময় সিটি করপোরেশনের যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বহুদিনের পুরাতন পাইপগুলো প্রতিস্থাপন করলে নিরাপদ পানি সরবরাহ সুন্দর হতো।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজে এই পানি পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা আছে কি না?

খন্দকার মো. ফয়সল আলম: রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবাইয়োলজি বিভাগে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া শনাক্তকরণের ব্যবস্থা থাকলেও তা শুধু একাডেমিক প্রয়োজনে করা হয়। মূলত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ এই ব্যাকটেরিয়ার শনাক্তের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

আপনাকে ধন্যবাদ।

খন্দকার মো. ফয়সল আলম: প্রথম আলোকেও ধন্যবাদ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন