ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলজংশন থেকে লাকসাম রেলজংশন পর্যন্ত ডাবল লাইনের কাজ চলছে। আখাউড়া থেকে শশীদল পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ, ৬টি রেলওয়ে স্টেশন, ব্রিজ, কালভার্ট তৈরির কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। রেললাইন নির্মাণকাজের প্রায় শেষ পর্যায়ে চলছে রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণের কাজ। কসবা রেলওয়ে স্টেশন ও সালদানদী রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণকাজ শুরু করে প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হওয়ার পর কাজে বাধা দেয় বিএসএফ। সীমান্তের শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতর কাজ হচ্ছে এমন অভিযোগ তাদের। বাধার মুখে কসবা রেলওয়ে স্টেশন, সালদানদী রেলওয়ে স্টেশন ও একটি রেলসেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

কসবা রেলওয়ে স্টেশন ও সালদানদী রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণকাজ শুরু করে প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হওয়ার পর কাজে বাধা দেয় বিএসএফ। সীমান্তের শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতর কাজ হচ্ছে এমন অভিযোগ তাদের।

বিষয়টি সমাধানের জন্য সম্প্রতি স্থানীয় সাংসদ আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে জটিলতা নিরসনে আলোচনা হলে গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় কসবার রেলস্টেশন, সালদানদী ব্রিজ ও সালদানদী রেলস্টেশনের কাজ। কাজ শুরু হওয়ার তিন দিনের মাথায় পুনরায় বিএসএফ কসবা রেলস্টেশন ও সালদানদী রেলস্টেশন নির্মাণের কাজে বাধা দিলে কাজ বন্ধ রাখেন তমা কন্সট্রাকশনের লোকজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সিভিল ডিপার্টমেন্টের প্রকৌশলী সোহেল রানা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু হলেও বিএসএফের বাধায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ২৭ ডিসেম্বর বিকেল থেকে আবারও কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিমল চন্দ্র সাহা বলেন, প্রায় ১০ মাস ধরে কাজ বন্ধ থাকায় তাঁদের অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাঁরা। তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য রেলওয়ে মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা চলছে। সমস্যা সমাধান হলে নির্মাণকাজ শেষ করতে কমপক্ষে আরও আট মাস সময় লাগবে।

এ বিষয়ে বিজিবি কর্তৃপক্ষ বেশি কিছু জানাতে রাজি হয়নি। ৬০ বিজিবির অধীন কসবা কোম্পানি কমান্ডার মো. আবদুস ছোবান বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

কসবা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সমর দে প্রথম আলোকে বলেন, কসবা রেলওয়ে স্টেশনটি ভারতীয় সীমান্তের ১৫০ গজের বাইরে। এ স্টেশনটি ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। তিনি আরও বলেন, ভারতীয় বিএসএফের বাধার কারণে স্টেশনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন