কাঠের সেতুর পাশে ‘মিনি পিকনিক স্পট’

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে অনেকেই বেড়াতে আসছেন। রান্নাবান্না ও খাওয়ার ঘর তৈরি করে দিয়েছেন গ্রামবাসী।

স্থানীয় উদ্যোগে গত বছর কাঠের সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। গত শুক্রবার শৈলকুপা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে
ছবি: প্রথম আলো

আগে ছিল বাঁশের সাঁকো। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো। পরে স্থানীয় উদ্যোগে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে কাঠের সেতু। দৃষ্টিনন্দন ওই সেতু দেখতে ও এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে অনেকেই সেখানে বেড়াতে আসছেন। ‘মিনি পিকনিক স্পটের’ জন্য রান্নাবান্না ও খাওয়ার ঘর তৈরি করে দিয়েছেন গ্রামবাসী। এই চিত্র ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় কালী নদীর পারের শ্রীরামপুর গ্রামের।

শৈলকুপার ত্রিবেনী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে কালী নদী। নদীটির দক্ষিণ পাশে তমালতলা-চড়িয়ারবিল ভায়া রতনপুর সড়ক। আর উত্তরে রয়েছে বসন্তপুর-শেখপাড়া সড়ক। দুটি সড়কই পাকা। দুটি সড়কের দুই প্রান্তে বড় বাজার রয়েছে। সেখানে নদী পারাপারের জন্য সেতু রয়েছে। কিন্তু মাঝের অংশে রতনপুর, সিংনগর, আগুনিয়াপাড়া, হড়রা, দিগনগর, শ্রীরামপুর, বসন্তপুর, পদমদী গ্রামের বাসিন্দারা শ্রীরামপুর-রতনপুর ঘাটে কাঠের সেতু দিয়ে পারাপার হন। নদীর উত্তরের পাড় ঘেঁষে রয়েছে পাকা সড়ক আর দক্ষিণে প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে পিচঢালা সড়ক। এই কাঁচা সড়ক দিয়ে কাঠের সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করলে অন্তত ছয় কিলোমিটার দূরত্ব কমে।

সেতু পাড়ে কথা হয় শ্রীরামপুর গ্রামের আবদুস সাত্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে এখানে লোকজন খেয়ানৌকায় পারাপার হতো। প্রায় ১০ বছর হয়েছে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। কিন্তু প্রায় প্রতিবছরই সাঁকো ভেঙে পড়ত। তখন মেরামত করতে হতো। গত বছরের শুরুতে গ্রামের লোকজন কাঠের সেতু বানানোর উদ্যোগ নেন। সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই টাকা দিয়েছেন। এতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা ছমির উদ্দিন বলেন, দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে একটি রান্না করার জায়গা তৈরি করে দেন। টিনের ঘর করে সেখানে রান্না এবং পাশে বসে খাবার ব্যবস্থা করেন। পাশে বসানো হয় টিউবওয়েল। বসার বেঞ্চও তৈরি করা হয়েছে। অনেকে নামাজ পড়তে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে নামাজ ঘর।

তবে কাঁচা রাস্তার কারণে যাতায়াতে সমস্যা রয়ে গেছে বলে জানান আবদুস সাত্তার। তিনি বলেন, নদীর দক্ষিণ পাশের দেড় কিলোমিটার মাটির রাস্তা পেরিয়ে কাঠের সেতুতে আসতে হয়। বর্ষার সময় এই কাঁচা রাস্তায় চলাচল করা মুশকিল হয়। তখন এলাকার লোকজনকে ছয় কিলোমিটার ঘুরতে হয়। দ্রুত এই রাস্তা পাকা করার দাবি জানান তিনি।

গত শুক্রবার সেখানে বেড়াতে এসেছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ফাহিম হাসান ও ফয়সাল আহম্মেদ। তাঁরা বলেন, এখানকার পরিবেশ খুবই মনোরম। মাঝেমধ্যেই তাঁরা আসেন বেড়াতে আসেন। রাস্তা পাকা হলে আরও অনেকে বেড়াতে আসতে আগ্রহী হবেন।

ত্রিবেনী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান বলেন, ইউনিয়নে এখনো অনেক কাঁচা রাস্তা রয়েছে। তিনি সদ্য নির্বাচিত হয়েছেন। কাঠের সেতুর পাশের রাস্তাসহ অন্য রাস্তাগুলোও পাকা করার উদ্যোগে নেওয়া হবে।