ভিডিওতে দেখা যায়, জিনস প্যান্ট ও টি–শার্ট পরিহিত এক কিশোর হাতে রামদা নিয়ে কারও দিকে তেড়ে যাচ্ছে। এ সময় ঘটনাস্থলের বিপরীত দিকে স্কুল ফটক থেকে শিক্ষার্থীরা সড়কে উঠছে। কেউ কেউ সড়ক পেরিয়ে ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। আচমকা দা হাতে উত্তেজিত কিশোরকে দেখে কাছ দিয়ে হেঁটে যাওয়া কয়েক শিক্ষার্থী চিৎকার করতে করতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অপর দিকে উত্তেজিত কিশোরকে থামাতে চেষ্টা করছেন বেশ কয়েকজন পথচারী। দাসহ তার হাত একবার আটকে ফেললেও পরক্ষণেই সে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। যথারীতি আবারও উত্তেজিত আচরণ করত থাকে ওই কিশোর।

ঘটনাটি কাপাসিয়া উপজেলা সদরের কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ফটকের সামনের সড়কে ঘটেছে। ওই এলাকার বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, এটি বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকের ঘটনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম আলোকে বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ দা নিয়ে এক কিশোরকে তিনি স্কুল ফটকের সামনে দৌড়ে আসতে দেখেন। এ সময় ওই কিশোরকে বারবার উদ্দেশ্যহীনভাবে দা নিয়ে তেড়ে যেতে দেখা যায়। তাকে থামানোর চেষ্টাও করেন অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত থামানো যায়নি। পরে এক-দুই মিনিটের মধ্যে ওই কিশোর দা হাতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও বলেন, ঘটনার ৩০ মিনিট পর ওই কিশোরসহ আরও দুজনকে ঘটনাস্থলে এসে কাউকে খুঁজতে দেখেন তিনি। তবে পুরো ঘটনার কে প্রতিপক্ষ, তা তিনি বুঝতে পারেননি।

ঘটনার বিষয়ে জানতে বুধবার রাত ৮টার দিকে যোগাযোগ করা হয় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজ উদ্দিন ফকিরের সঙ্গে। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ছুটিতে ছিলাম। শুনেছি ফটকের বাইরে কেউ একজন দা হাতে উত্তেজিত আচরণ করছে। পরে জানতে পারি, এটা স্কুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনা নয়। এমনকি এ ঘটনার বিষয়ে আমার স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ অভিযোগ জানায়নি। তবে ঘটনার বিষয়ে লোকজনের কাছে শুনেছি।’

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া ভিডিও আমরা দেখেছি। খোঁজ নিচ্ছি। দা হাতে কে এই ব্যক্তি, তা শনাক্ত করার জন্য পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন