বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ভোকেশনাল, কারিগরি বা প্রযুক্তিগত শিক্ষা সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা আছে যে কম মেধাবী, দরিদ্র পরিবারের মানুষ কারিগরি শিক্ষায় পড়াশোনা করে। অনার্স, মাস্টার্স পাস করে তিন-চার বছর বেকার হয়ে বাপের হোটেলে বসে খাওয়ার চেয়ে এসএসসি বা এইচএসসি পাস করে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশে বা বিদেশে একটি ভালো চাকরি জোগাড় করতে পারলে ভালোভাবে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করা যায়। কারিগরি শিক্ষা অর্জন করলে কেউ বেকার থাকবে না। তাই কারিগরি শিক্ষার ব্যাপারে সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে।

শিক্ষার সব স্তরে কারিগরি শিক্ষা চালুর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান দীপু মনি। তিনি বলেন, শিক্ষায় অনেক পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে, সেটি করা হচ্ছে। অনার্স বা মাস্টার্স না বিএসএস, বিকম বা বিএ পাস কোর্সের সঙ্গে আইসিটি, ল্যাংগুয়েজসহ বিভিন্ন বিষয় সংযুক্ত করা হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে কর্ম উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। তাই দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় কোর্স হিসেবে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যাতে সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা অর্জন করে কর্মক্ষেত্রে যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। দেশে কর্মক্ষমতা বাড়াতে বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

বর্তমান সরকারের অধীনে শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের নানা দিক তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধীরা শিক্ষার কোনো উন্নয়ন করেনি, কোনো নীতিমালা করেনি। আমাদের শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে। সব শিশুকে শিক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত ৩ শতাংশের বেশি বরাদ্দ দিতে পারি না। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শিক্ষা হবে আগামী দিনে মেগা প্রজেক্ট। এর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিল বিজ্ঞানমনস্ক, প্রযুক্তিবান্ধব, মানবিক মানুষ হবে, দক্ষ মানুষ হবে, সেটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ছাত্রাবাসটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রাথমিক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ প্রমুখ।

এর আগে দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় ৪৭ নম্বর লালমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষকে রাজনীতি সচেতন হতে হবে। ভোটের সময় জেনে-শুনে নিজের ভোট প্রয়োগ করতে হবে। একাত্তরে যুদ্ধাপরাধীদের দোসর, পঁচাত্তরে জাতির পিতার হত্যাকারীদের দোসর, ২০০১ থেকে ২০০৬-এ হত্যাকারী, ধর্ষণকারীদের দোসর, ২০১১ থেকে ২০১৪-এ অগ্নিসংযোগকারীদের হাতে আপনারা আপনাদের জীবনের পরিচালনার দায়িত্ব দেবেন না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন