বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, রামনগর মাঠের মাঝখানে কাপড় দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ভেতরে সারি সারি কাপড় বিছানো। পাশেই আরেকটি প্যান্ডেলে রান্নার আয়োজন। আজ বেলা দেড়টার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে অসহায় বৃদ্ধ, ভিক্ষুক, দুস্থ মানুষেরা দাওয়াতে আসতে শুরু করেন। সবার হাতে রাহাতের ‘মা স্টোর’–এর দাওয়াত কার্ড। হুইলচেয়ারে বসে দাওয়াতে এসেছেন অর্ধশতাধিক মানুষ।

default-image

রাহাতের এ আয়োজনকে সুন্দর করতে পাশে এসেছেন তাঁর বন্ধুরা। বন্ধু রুবেল হোসেন বলেন, পাঁচ দিন ধরে রেলস্টেশনসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় দুস্থ মানুষদের দাওয়াত দিয়েছেন। এক হাজার মানুষের আয়োজন করা হয়েছিল। সাত শতাধিক মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। ভালোই লাগছে। খাবারের প্যাকেটে ছিল পোলাও, মুরগির রোস্ট, ডিম ভুনা ও বুটের ডাল। প্রত্যেকের জন্য পৃথক পানির গ্লাস।

বিরল উপজেলা থেকে দাওয়াতে এসেছেন শাহজাদী (৫৭)। খাওয়া শেষে বলেন, ‘ভালো খাইছি। জানি না কী নিয়তে খাওয়াইলো। তয় যে নিয়তে খাওয়া দেক, আল্লাহ তার ভালো করুক। মনের ইচ্ছা জানি পূরণ করি দেয়।’

ছয় ভাইবোনের মধ্যে রাহাত সবার ছোট। বাবা ইউনুস আলী চামড়ার ব্যবসা করতেন। মারা গেছেন ১০ বছর আগে। বাবা মারা যাওয়ার পর দুলাভাইয়ের মুদিদোকানে ব্যবসা শেখেন। পরে নিজেই ব্যবসা শুরু করেন। চার বছর হলো বিয়ে করেছেন। ভাইয়ের এ আয়োজনে মাঠে বন্ধুদের পাশাপাশি ও তাঁর স্বজনেরা এসেছেন।

রাহাত হোসেন বলেন, ‘অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল গ্রামের অসহায় মানুষদের নিয়ে এক বেলা খাব। ব্যবসায় কিছুটা সফলতা পেয়েছি। নিজে ছোটমতো একটি বাড়ি করেছি। নিজের আয়ে ভালো চলছি। সুখে আছি। নির্বাচনে দাঁড়ানোর সময় অনেকে এ ধরনের আয়োজন করেন। কিন্তু আমার এ রকম কোনো চিন্তা নেই। মনের ইচ্ছা পূরণ করতে পেরেছি। ভীষণ আনন্দ লাগছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন