ফেরির যাত্রী ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তুহিন দেওয়ান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফিরোজ আহম্মেদ। তাঁরা বলেন, খুব সকালে তাঁরা ঢাকা যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে রওনা দেন। তাঁরা দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে অপেক্ষমাণ বড় ফেরিতে উঠে পড়েন। সকাল ছয়টার দিকে তাঁদের বহনকারী বড় ফেরিটি ঘাট ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে আকাশ মেঘে কালো হয়ে যায়। ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে ফেরিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফেরিটি দুলতে থাকলে ভয়ে অনেকে এক পাশ থেকে আরেক পাশে ছোটাছুটি করতে থাকেন। একপর্যায়ে ফেরিটি দিক হারিয়ে ফেলে। ঝড় থামলে সকাল সোয়া সাতটার দিকে ফেরিটি পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটের ভাসমান কারখানা মধুমতীতে গিয়ে ঠেকে।

কালবৈশাখীতে আজ সকালে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এর আগে উভয় ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া পাঁচটি ফেরি ঝড়ের কবলে পড়ে। দুটি ফেরি দিক হারিয়ে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর ঘাটে পৌঁছায়। ঝড়ে র‍্যাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দৌলতদিয়ার ৩ ও ৭ নম্বর ঘাট বন্ধ আছে। ঘাটে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।

ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আজ সকাল সোয়া ছয়টার দিকে হঠাৎ করে চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। চারদিক কালো মেঘে ঢাকা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ঝোড়ো বাতাস ও বৃষ্টি। এর আগে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া রো রো (বড়) ফেরি কেরামত আলী, খানজাহান আলী, কে–টাইপ (মাঝারি) ফেরি ঢাকা ও ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি হাসনাহেনা, রজনীগন্ধাসহ ছোট-বড় মিলে পাঁচটি ফেরি ঝড়ের কবলে পড়ে। অধিকাংশ ফেরি অনেক সময় নিয়ে ধীরগতিতে ঘাটে পৌঁছায়। এর মধ্যে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বড় ও একটি ছোট ফেরি দিক হারিয়ে ফেলে। ফেরি দুটি প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে গিয়ে ভেড়ে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. শিহাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সকালে মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী দেখা দেয়। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া তিনটি ও পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া আরও দুটি ফেরি ঝড়ের কবলে পড়ে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন