default-image

নড়াইলের কালিয়ায় আওয়ামী লীগের দুপক্ষ একই সময়ে কর্মসূচি ঘোষণা করায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় কালিয়া শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ওই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। কালিয়া উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করার ঘটনায় কালিয়া আওয়ামী লীগের দুপক্ষ ওই কর্মসূচি ঘোষণা করে।

নড়াইলের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) রিপন চন্দ্র সরকার জানান, মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগের দুপক্ষ জনসভা করার ঘোষণা দেওয়ায় প্রচুর লোকসমাগম হতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে চলাচল, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও অস্ত্রশস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্র জানায়, আট বছর ধরে কালিয়া উপজেলা ও পৌর শাখা ছাত্রলীগের কমিটি কার্যকর ছিল। গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই দুই শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ। উপজেলা কমিটিতে এফ এম সোহাগকে সভাপতি ও রাইসুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর কমিটির এম এম তানবীরুল ইসলামকে সভাপতি ও প্রশান্ত কুমার দাসকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ওই কমিটি কালিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ ঘোষ ও সালামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শামীম আহমেদের অনুসারীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে।
নতুন ওই কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়ে নড়াইল-১ (কালিয়া-সদরের একাংশ) আসনের সাংসদ বি এম কবিরুল হক ওরফে মুক্তি বিশ্বাস এবং তাঁর সমর্থিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা পাল্টা কমিটি ঘোষণা দেন। তাঁদের উপজেলা কমিটিতে ইয়ামিন বিশ্বাসকে সভাপতি ও মহিবুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেয়ামত হোসেন ও রাইসুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়।  

কোনো সম্মেলন ছাড়াই গঠনতন্ত্রবহির্ভূত ও একতরফাভাবে কমিটি করেছে জেলা ছাত্রলীগ। ওই কমিটি আমি মানি না। আমরা যাদের দায়িত্ব দিয়েছি, তারাই কালিয়ায় ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
বি এম কবিরুল হক, সাংসদ, নড়াইল–১ আসন

এ বিষয়ে নড়াইল-১ আসনের সাংসদ বি এম কবিরুল হক আজ মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব দেওয়া নতুন কমিটিকে নিয়ে আজ দুপুরে কালিয়া শহরে আনন্দমিছিল করার কথা ছিল। ১৪৪ ধারা জারি করায় তা করছি না। তবে অবৈধভাবে জেলা ছাত্রলীগ নতুন কমিটি করেছে। এর প্রতিবাদে কালিয়া উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে আজ বিক্ষোভ মিছিল হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যাদের চিনি না, জানি না; যারা কোনো দিন জয়বাংলা স্লোগান দেয়নি, এসব লোকজনকে দিয়ে কোনো সম্মেলন ছাড়াই গঠনতন্ত্রবহির্ভূত ও একতরফাভাবে কমিটি করেছে জেলা ছাত্রলীগ। ওই কমিটি আমি মানি না। আমরা যাদের দায়িত্ব দিয়েছি, তারাই কালিয়ায় ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

প্রতিপক্ষের নেতা শামীম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আজ তিনটায় নবগঠিত কালিয়া উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগ এবং জেলা ছাত্রলীগকে সংবর্ধনা দিতে চেয়েছিলাম। পাশাপাশি আনন্দ মিছিল হতো। কিন্তু প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারিকে আমরা সম্মান দেখাব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0