বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
কাপাসিয়া উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী পরিমল চন্দ্র বর্মণ প্রায় ২০ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছের দাম হাঁকিয়েছেন ২৫ হাজার টাকা।

বিভিন্ন ধরনের মাছ নিয়ে মেলায় হাজির হয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলার জামলাপুর, বিনিরাইল, চুপাইর, বেলনা, জাঙ্গালিয়া, শিপপুর, সিংলাবও, কলাপাটুয়াসহ শতাধিক গ্রাম-মহল্লার মানুষ। মেলাকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে উৎসব। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই মেয়ে-জামাতা ও স্বজনদের আগে থেকেই দাওয়াত করা হয়েছে। তাঁদের মেলা থেকে কেনা মাছ রান্না করে আপ্যায়ন করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ উৎসব দেখতে আসেন। দিনব্যাপী চলছে মাছ কেনাবেচা। উৎসবমুখর এমন দিনের জন্য পুরো বছর অপেক্ষায় থাকেন কালীগঞ্জ উপজেলাবাসী।

আজ সকালে সরেজমিন দেখা যায়, মেলায় উঠেছে বড় বড় মাছ। আছে কিছু সামুদ্রিক মাছও। শতাধিক দোকানে এসব মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। কাপাসিয়া উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী পরিমল চন্দ্র বর্মণ প্রায় ২০ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছের দাম হাঁকিয়েছেন ২৫ হাজার টাকা। নরসিংদীর মাছ ব্যবাসায়ী মিন্টু দাস একটি ১৫ কেজি ওজনের রুই মাছের দাম হাঁকান ১০ হাজার টাকা। ১২ কেজি একটি বোয়াল মাছের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। ২০ কেজি ওজনের একটি বিগহেড মাছের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা। ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকার বড় গ্রাস কার্প ও ১০ হাজার টাকা মূল্যের বেশ কিছু কার্প, কালবাউশও উঠেছে মেলায়। একটি বড় সিলভার কার্প মাছের দাম হাঁকানো হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।

১৫-১৬ বছর ধরে এই মাছের মেলায় তিনি মাছ বিক্রি করে আসছেন। মেলায় একটু দাম বেশি পাওয়া যায়। তাই মেলার অপেক্ষায় থাকেন।
জাফর আলী, মাছ বিক্রেতা

মাছ বিক্রেতা মধু দাস বলেন, মেলার জন্য এলাকার বিভিন্ন পুকুর ও নদী থেকে বড় মাছ নিয়ে আসা হয়েছে। জাফর আলী বলেন, ১৫-১৬ বছর ধরে এই মাছের মেলায় তিনি মাছ বিক্রি করে আসছেন। মেলায় একটু দাম বেশি পাওয়া যায়। তাই মেলার অপেক্ষায় থাকেন।

১৫ কেজি ওজনের একটি বেয়াল মাছ ২১ হাজার টাকায় কিনেছেন জাঙ্গালিয়া গ্রামের জামাতা আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মেলায় অন্য সময়ের চেয়ে মাছের দাম একটু বেশি। তারপরও একটি বোয়াল মাছ কিনেছেন। কলাপাটুয়া গ্রামের জামাতা হোসেন বলেন, ‘মেলায় খুব বেশি বড় মাছ পাওয়া যায়নি। তাই ৩-৪ ধরনের মিলিয়ে ৩৫ হাজার টাকার মাছ কিনেছি।’

default-image

মেলা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি কিশোর আকন্দ বলেন, সরকারের বিধিনিষেধ থাকলেও মানুষের উপস্থিতি ঠেকানো যায়নি। চেষ্টা করা হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলাটির আয়োজন করার।

কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাদিয়া রহমান বলেন, মেলা ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বড় মাছ ব্যবসায়ী ও মাছচাষিরা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে মাছ বিক্রি করে থাকেন। মেলা কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন