কিশোরগঞ্জে হরতাল চলাকালে আওয়ামী লীগ ও হেফাজতের কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। রোববার বেলা সোয়া ১টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের স্টেশনরোড এলাকায়
কিশোরগঞ্জে হরতাল চলাকালে আওয়ামী লীগ ও হেফাজতের কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। রোববার বেলা সোয়া ১টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের স্টেশনরোড এলাকায় ছবি: প্রথম আলো

কিশোরগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল চলাকালে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার হেফাজত ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হওয়া ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫০ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ওমান ও হেফাজত নেতা কিশোরগঞ্জ ইমাম উলামা পরিষদের প্রচার সম্পাদক মাওলানা কে এম নাজিমুদ্দিন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীসহ কয়েক শ হরতাল সমর্থনকারী লাঠিসোঁটা নিয়ে জেলা শহরের স্টেশন রোডে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা চালান। এ সময় তাঁরা ওই কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও ভেতরের আসবাব ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। প্রায় ১৫-২০ মিনিট ধরে ভাঙচুর করার পর আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী কার্যালয়ে এসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র আরও জানায়, হরতাল চলাকালে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের স্টেশন রোডের গৌরাঙ্গবাজার, শহীদি মসজিদ প্রাঙ্গণ, পুরান থানা, একরামপুর, আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও আঠারো বাড়ি কাচারি মোড়ে দফায় দফায় আওয়ামী লীগ ও হেফাজতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে প্রায় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে।

সংঘর্ষে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আমিনুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, ফয়েজ ওমান ও হেফাজত নেতা কে এম নাজিমুদ্দিন, আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্রসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ অসংখ্য কাঁদানে গ্যাসের শেল, ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়ে। সংঘর্ষে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আমিনুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, ফয়েজ ওমান ও হেফাজত নেতা কে এম নাজিমুদ্দিন, আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্রসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।
হরতাল চলাকালে কিশোরগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার যান চলাচল কম ছিল। এ ছাড়া সংঘর্ষের কারণে জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

default-image

কিশোরগঞ্জ ইমাম উলামা পরিষদের সভাপতি ও হেফাজত নেতা মাওলানা শফিকুর রহমান জালালাবাদী বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করতে চেয়েছিলেন। কোনো সংঘর্ষের পক্ষে ছিলেন না। এমনকি সংঘর্ষ চলাকালে তিনি শহীদি মসজিদের মাইকে বারবার হেফাজত কর্মীসহ মাদ্রাসাছাত্রদের সড়ক ছেড়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজল বলেন, হরতালের নামে জঙ্গি বাহিনী ন্যক্কারজনকভাবে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তাঁরা সহিংসতা প্রতিরোধ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারণেই বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ঘটেনি। তবে সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ কিছু কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুরসহ সব ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যারা এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতিরি জন্য দায়ী তাঁদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন