বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকুল মিয়ার নির্মাণাধীন বাড়ির টয়লেটের জন্য ১২ ফুট গভীরতার একটি সেপটিক ট্যাংক তৈরি করা হয়। ট্যাংকের মুখে ঢাকনা হিসেবে অস্থায়ীভাবে একটা কাঠ রাখা ছিল। বাড়ির সবার অজান্তে সেই কাঠ সরিয়ে গাভিটি ট্যাংকের ভেতরে পড়ে যায়। সন্ধ্যায় গরুটির সন্ধান না পেয়ে বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ট্যাংকের ভেতর থেকে গাভির আওয়াজ শুনতে পান। এ সময় চেষ্টা চালিয়েও গাভিটিকে ওঠাতে না পেরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল এসে কাজ শুরু করে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টা শেষে গাভিটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। গাভিটি ছয় মাসের গর্ভবতী।

গাভির মালিক বকুল মিয়া জানান, কীভাবে এত ছোট মুখ দিয়ে গাভিটি ভেতরে ঢুকে গেল, সেটা বুঝে আসছে না। শেষ পর্যন্ত কোনো রকম আহত হওয়া ছাড়াই গাভিটি জীবিত উদ্ধার হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে ফায়ার সার্ভিস দলকে ধন্যবাদ জানান।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোবারক আলী প্রথম আলোকে বলেন, গাভিটির আটকে পড়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে তাঁদের উদ্ধারকারী দল। তাঁরা এসে দেখেন, গাভিটি ১২ ফুট নিচে ট্যাংকের ভেতরে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে হাম্বা হাম্বা করছে। সেপটিক ট্যাংকের প্রায় ২ ফুট আয়তনের মুখ দিয়ে গাভিটি কোনোভাবে বের করা সম্ভব হয়নি। পরে ট্যাংকের মুখ ও রড বিশেষ যন্ত্র দিয়ে কেটে প্রশস্ত করে পুরোটা পানি ঢেলে ভরা হয়। এতে গাভিটি পানির ওপর ভেসে সাঁতার কাটতে থাকে। পরে উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত বিশেষ রশি দিয়ে বেঁধে টেনে ওপরে তুলে ট্যাংক থেকে বের করে আনা হয় গাভিটিকে। উদ্ধারকাজে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগলেও গাভিটিকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরে তাঁরা স্বস্তি বোধ করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন