বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা, হামলাসহ নানা অভিযোগে মোট ১২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি ৯৪ জন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ১২ মামলার মধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৫টি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ৪টি ও থানা-পুলিশ ৩টির তদন্ত করছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য সন্নিবেশ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চলছে মামলার তদন্তের কাজ।

মামলার সার্বিক অগ্রগতির ব্যাপারে জানতে চাইলে সিআইডি কুমিল্লা ও নোয়াখালী বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান প্রথম আলোকে বলেন, কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির পাড়ে অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা ১২টি মামলার মধ্যে ৫ মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের বক্তব্য ও তথ্য–উপাত্ত যাচাই-বাছাই করছেন তাঁরা। পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে সিআইডি। এ ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তাঁদের নাম আসামিদের কাছ থেকে জানা গেছে। এখন সেগুলো মিলিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কুমিল্লা নগরের বজ্রপুর এলাকার বাসিন্দা ইতিহাসবিদ আহসানুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘পূজামণ্ডপের ঘটনার পেছনে কারা আছেন, তা খুঁজে বের করতে হবে। এ ঘটনার পেছনে ইন্ধনদাতা রয়েছেন। তাঁদের নাম প্রকাশ করার দাবি জানাই। শান্তি ও সম্প্রীতির শহরে এ ঘটনা এখনো মেনে নিতে পারছি না। ২০২১ সালের এ ঘটনা সারা জীবন মনে দাগ কাটবে। নানুয়া দীঘির পাড়েই আমরা হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি। এ ঘটনা কুমিল্লার ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা ও কোরআন অবমাননার অপরাধে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হারুনুর রশিদ। তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর ২১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইকবাল হোসেনকে আটক করা হয়।

এর আগে ওই মণ্ডপ থেকে ৯৯৯ নম্বরে কল করা রেজাউল ইসলাম ও দারোগা বাড়ি শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরী (রহ.) মাজারের হুজুর মো. হুমায়ুন কবীর ও খাদেম আশিকুর রহমান মোহাম্মদ ফয়সলকে আটক করা হয়। তাঁদেরও এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২২ অক্টোবর তাঁদের প্রথম দফায় সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরে ২৪ অক্টোবর মামলা সিআইডিতে স্থানান্তরিত হয়। ২৯ অক্টোবর সিআইডি দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় আসামিদের। রিমান্ডে তাঁরা পুলিশকে নানা ধরনের তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে কুমিল্লা নগরের কাপড়িয়াপট্টি চাঁনমনী কালীবাড়ি মন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমা ভাঙচুর, আগুন লাগানো, পুরোহিত ও দর্শনার্থীদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৩২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আবদুল আলিম খান বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এ মামলায় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়।

১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় সদর দক্ষিণ উপজেলার ঘোষগাঁও এলাকায় পূজামণ্ডপে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই ফেরদৌস হোসেন বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৮০ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেন। এ মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া নানুয়া দীঘির পাড়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোলাম মাওলা (২৬) নামের এক যুবক নিজের ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে বিভিন্ন উগ্রবাদী কথা সংযুক্ত করে প্রচার করে। এ ঘটনায় ১৪ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ১৫ অক্টোবর র‌্যাব-১১ ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-২ কুমিল্লার পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ ছাড়া গত ২৫ অক্টোবর নানুয়া দীঘির পাড়ের বাসিন্দা তরুণ কান্তি মোদকের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাও তদন্ত করছে সিআইডি। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাগুলোরও তদন্ত চলমান।

জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ‘কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননায় জড়িত প্রধান হোতা ইকবাল হোসেনসহ মামলার কয়েক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য মামলার আসামিরাও গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ ১২ মামলার তদন্ত করছে। আমরা দোষীদের শনাক্ত করছি। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন