অন্যদিকে ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই এক বছরের জন্য কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ছয় সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতি পদে আসেন আবু তৈয়ব ওরফে অপি, সহসভাপতি মিজানুর রহমান রাতুল ও শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মির্জা ও হোসেন মো. মনির। পরে ১৬১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিবাহিত ও অছাত্র। কমিটির বেশির ভাগ সদস্য নিষ্ক্রিয়। কমিটির সভাপতি আবু তৈয়ব বলেন, ‘যখন কমিটি হয়, তখন আমি অবিবাহিত ছিলাম। পরে বিয়ে করেছি।’

২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই প্রথমবারের মতো কুমিল্লা মহানগর ছাত্রলীগের সাত সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি তিন মাসের জন্য দেওয়া হয়। এতে আহ্বায়ক পদে আবদুল আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক পদে যথাক্রমে নাঈমুল হক, গোলাম সারোয়ার, সাইফুল আলম, ফয়সাল হোসেন, নূর মোহাম্মদ সোহেল ও সাকিব আল হাসানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই কমিটির কার্যক্রম খুব বেশি চোখে পড়েনি। এরপর আর কোনো কমিটি হয়নি। তিন মাসের ওই কমিটি পার করছে ৬ বছর ৮ মাস। এই কমিটির আহ্বায়ক বিবাহিত। এ কমিটির একাধিক নেতাকে ফোন করেও তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক বলেন, নতুন ছেলেদের দিয়ে মহানগর ছাত্রলীগকে সাজাতে চান স্থানীয় সাংসদ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

২০০৭ সালের ২৮ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররাজনীতিমুক্ত। প্রতিবছর ভর্তির সময় শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ধূমপান করবেন না বলে অঙ্গীকারনামা দিয়ে ভর্তি হন। কিন্তু ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে ছাত্ররাজনীতি শুরু করে। ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাজনীতিমুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ৫১ সদস্যবিশিষ্ট প্রথম আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মাহমুদুর রহমান মাসুমকে আহ্বায়ক, আল আমিন ও ইংরেজি সৈয়দ শাহরিয়ার মাহমুদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ওই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

২০১৫ সালের ২২ জুলাই মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসানকে সভাপতি ও লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রেজা ই রাব্বীকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ২৮ মে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইলিয়াস মিয়াকে সভাপতি ও গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রেজাউল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি হয়। এরপর ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর ১৬১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এক বছর মেয়াদি ওই কমিটির মেয়াদ শেষ। অর্ধেকের ছাত্রত্ব নেই। বেশির ভাগই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে গেছেন। কমিটিতে মাদকাসক্ত রয়েছেন কয়েকজন। রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার আসামিরাও। এঁদের কয়েকজনকে চাকরি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য এমরান কবির চৌধুরী।

এর মধ্যে সভাপতি মো. ইলিয়াস মিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তাঁর ছাত্রত্ব নেই। তিনি বিবাহিত, কন্যাসন্তানের জনক। পাঁচ বছরের শিক্ষাজীবন (অনার্স ও মাস্টার্স) হলেও তিনি গত ১৫ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন। হলে থাকছেন।

ছাত্রলীগের অন্তত ছয়জন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এক বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ ২০১৮ সালেই শেষ। এখনো নতুন কমিটি হচ্ছে না। কী কারণে নতুন কমিটি হচ্ছে না তা খতিয়ে দেখতে হবে। বর্তমান কমিটির দুই-তৃতীয়াংশের ছাত্রত্ব শেষ। তাঁরা পড়াশোনার পাট চুকিয়ে চলে গেছেন। কেউ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা পদে চাকরি করছেন। তাঁরা দ্রুত কমিটি চান।

জানতে চাইলে মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘কেন্দ্র যখনই কমিটি গঠনের কথা বলবে, তখনই কমিটি হবে। সম্মেলন করে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি করতে চাই।’