বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার কুলিয়ারচর গিয়ে দেখা যায়, অনেক প্রার্থী মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। আগামী ২ নভেম্বর ফরম কেনার শেষ সময়। স্থানীয় লোকজন জানান, কুলিয়ারচরের ছয়টির মধ্যে ভোট হবে না রামদী ইউনিয়নে। বাকি পাঁচটির মধ্যে এবার কেবল প্রার্থিতা ধরে রাখতে পেরেছেন উসমানপুর ইউপির চেয়ারম্যান নিজাম ক্বারী। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। বাকি সালুয়া, ছয়সূতী, ফরিদপুর ও গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউপিতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বদল হয়েছে।

বর্তমানদের বিদায় জানানোর পালায় আপনি কেবল ব্যতিক্রম, বিশেষত্বটা কী—এমন প্রশ্নের জবাবে নিজাম ক্বারীর বলেন, ‘আর কিছু নয়, জনগণ। জনগণ আমাকে চায়, এই সত্য নীতিনির্ধারকেরা টের পেয়ে গেছেন। সেই কারণেই আমাকে বিদায় জানাতে পারেননি, রেখে দিয়েছেন।’

দলীয় মনোনয়নের পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে সরাসরি হাত ছিল সাংসদ নাজমুল হাসান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমতিয়াজ বিন মুছার। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য, এ ক্ষেত্রে সাংসদের চাওয়া হলো নেতৃত্বের সমন্বয়। বিশেষ করে এক ব্যক্তির হাতে একাধিক পদ না থাকা আর দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থানে স্থির হয়ে না পড়া। সেই কারণেই মনোনয়নে এত বেশি পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সালুয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ মাহাবুবুর রহমান। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। এবার চেয়েও দলীয় সমর্থন জোটেনি তাঁর। এই ইউপিতে দল আস্থা রেখেছে মোহাম্মদ কাইয়ুমের ওপর। কাইয়ুম ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী। তাঁর বাবা অধীর মিয়া দীর্ঘদিন এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

প্রার্থী বদলের বিষয়টি মোটেও সহজভাবে নিতে পারছেন না মাহাবুবুর। দলীয় সমর্থন না পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকার ভাবনায় এগোচ্ছেন তিনি। মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘দল চালাতে গিয়ে পকেট থেকে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। জান-মাল বাজি রেখে দল করতে হচ্ছে। দেওয়ার বেলায় আমি, আর পাওয়ার বেলায় অন্যজন, এমনটা হতে পারে না। মেনেও নেব না।’

মাহাবুবুরের দেওয়া তথ্যমতে, মনোনয়ন পাওয়া কাইয়ুমের বাবা অধীর মিয়া ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। সঙ্গে পরিবারের অন্যরাও ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ইউনিয়নটিতে বিএনপি সংগঠিত হয়েছে। দল ক্ষমতায় আসার পর অধীর আবার দলে ভেড়ে। ওই পরিবারের একজনকে মনোনয়ন দেওয়াটা কোনোভাবেই হজম হচ্ছে না তাঁর। তবে কাইয়ুম বলেন, আওয়ামী লীগে তাঁর বাবার যে অবদান, তা ভোলার নয়। দলবদলের প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান তিনি।

গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক। দলীয় সমর্থন বঞ্চিত ব্যক্তিদের তিনি একজন। তবে গতবারও সমর্থন জোটেনি তাঁর। বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনকে হারিয়ে জয় পান। এবার দলের আস্থা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ এনামুল হকের ওপর। এর আগে এনামুল ১৯৯৬ সালে একবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে হেরে গিয়েছিলেন। এনামুলের কাছে দলের সমর্থন যাওয়াটাকে মেনে নিতে পারছেন না আব্বাসসহ আরও কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। আবার বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে থাকতে এরই মধ্যে মনোনয়ন ফরমও কিনে রেখেছেন আব্বাস। তিনি বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন ঠিক হয়নি। নির্বাচনে যাব কি না, রোববার সিদ্ধান্ত।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ শামসুদ্দোহাও ওই ইউনিয়নের দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীদের একজন ছিলেন। দলীয় সমর্থন এনামুলের দিকে যাওয়ায় শামসুদ্দোহা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থী বদলের দাবি জানান। শামসুদ্দোহা বলেন, ‘এনামুল হলো এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আউয়াল হত্যা মামলার মূল আসামি। সুতরাং আর যা–ই হোক, তাঁকে মেনে নেওয়া যায় না।’ তবে এনামুলের বিশ্বাস, এখন কিছু ঝামেলা থাকলেও কিছুদিনের মধ্যে দলের সমস্যা ঠিক হয়ে আসবে।

ফরিদপুর ইউপিতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি এস এম আজিজ উল্লাহ। ১৯৯৬ সালে তিনি একবার নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয় পান। পরের বার হেরে যান। লম্বা বিরতির পর এবার তিনি দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে ফিরে এলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমতিয়াজ বিন মুছার সঙ্গে ২০১৩ সাল থেকে তাঁর বিরোধ। মনোনয়ন পাওয়ার পর সাংসদ নাজমুল হাসানের মধ্যস্থতায় বুধবার দুজনের মনের মিল হয়েছে। কোলাকুলি করে বিরোধ ঠেলে দেন তাঁরা। আজিজ উল্লাহ বলেন, ‘দল আস্থা রেখেছে, আমিও দলের হয়ে কাজ করব আস্থার সঙ্গেই।’

বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ আলম মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। তবে সেই জন্য তাঁর মনে দুঃখ নেই। শাহ আলম বলেন, ‘মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে অন্য ইউনিয়নে কিছু সমস্যা থাকলেও আমাদের এখানে ভুল হয়েছে বলে মনে হয় না। আমি বিষয়টিকে সহজভাবেই নিয়েছি।’

ছয়সূতী ইউপি চেয়ারম্যান মীর মো. মিছবাহুল ইসলাম। তিনিও দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতদের একজন। এই ইউপিতে প্রার্থী বদল হয়ে এবার সমর্থন আদায় করে নিয়েছেন ইকবাল হোসেন। তিনি কুলিয়ারচর ডিগ্রি কলেজছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি)। ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে নির্বাচন করে জয় পেয়েছিলেন।

কোন গুণে দলীয় সমর্থন পেলেন—এমন প্রশ্নে ইকবালের উত্তর, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের চাওয়া ক্লিন ইমেজের প্রার্থী। আমার ইমেজ ক্লিন। এই গুণের কারণেই দল আমাকে কাছে টেনেছে।’

দলীয় সিদ্ধান্তে আস্থা আছে কি না, এমন প্রশ্নে মিছবাহুল ইসলাম বলেন, ‘দল যেহেতু করি, সুতরাং দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে উপায় নেই। আমি মেনে ও মানিয়ে নিয়েছি।’
নতুনদের ওপর আস্থা রাখার কারণ জানতে কথা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমতিয়াজ বিন মুছার সঙ্গে। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘নতুনদের ওপর আস্থা রাখা মানে বর্তমানেরা অযোগ্য, এমন নয়। মনোনয়ন দেওয়ার আগে আমরা সংশ্লিষ্ট ইউপির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছি। চায়ের দোকানে আড্ডা দেন, এমন লোকজনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তৃণমূলের চাহিদা বিবেচনায় রেখে আমরা কেবল সমর্থন জুগিয়ে গেছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন