বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে কাউন্সিলর সোহেল রানা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বালু স্তূপ করে রেখেছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ডান পাশে ইট রেখেছেন। বালু উড়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ দূষিত ও ইট ভাঙানোর শব্দে লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। এসব নির্মাণসামগ্রী রাখার ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের অনুমতিও নেওয়া হয়নি।

প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রথমে ভেবেছিলেন কয়েক দিন পর এগুলো সরিয়ে নেবেন ঠিকাদার। কিন্তু না সরানোয় বিষয়টি কাউন্সিলরকে জানান। তিনি এতে কর্ণপাত করেননি। আজ সকালে ইট ভাঙানোর যন্ত্র দিয়ে ইট ভাঙা হচ্ছিল। এ সময় স্কুলে জাতীয় সংগীত চলছিল। ইট ভাঙানো বন্ধ রাখার কথা বললেও শ্রমিকেরা কোনো কথা শোনেন না।

প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, আজ সকালে কাউন্সিলর তাঁর শ্রমিকদের দিয়ে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার করে কাজ করাচ্ছিলেন। এতে বাধা দেওয়া হয়। এরপর কাউন্সিলর খেপে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। সকাল ১০টার দিকে কাউন্সিলর নিজে ছয় থেকে সাতজন সন্ত্রাসী নিয়ে তাঁর (প্রধান শিক্ষক) কার্যালয়ে ঢোকেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, কাউন্সিলর কার্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষকের জামার কলার ধরে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। চেয়ার-টেবিল ফেলে দেন। বাধা দিতে গেলে ধাক্কা দিয়ে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়।

প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি গালে ও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। শাসাতে শাসাতে কাউন্সিলর ও তাঁর লোকজন মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সভাপতি ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়।

এদিকে এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সামনে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। তারা তাদের শিক্ষকদের ওপর হামলা ও মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে থাকে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বলে, ইট ভাঙার শব্দে ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারেন না। বালু উড়ে চোখে পড়ে। কাউন্সিলর প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কোনো প্রতিবাদ করে না।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাউন্সিলর খুবই অন্যায় কাজ করেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমিও ২৫ বছর কাউন্সিলর ছিলাম। এ ধরনের গর্হিত কাজ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হবে।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ব্যবহার করে নির্মাণসামগ্রী রাখার কোনো বিধান নেই। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার অধিকার কারও নেই।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছাব্বিরুল আলম বলেন, পরিস্থিতি আপাতত শান্ত আছে। থানায় মামলা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন